বিঃদ্রঃ > নীচের ছবিতে ক্লিক করলে ছবিগুল বড় আকারে ও পরপর দেখা যাবে ।
০২/০৬/১২ – আমি মহারাষ্ট্রের লাতুর থেকে আর আমার জগত জোড়া জাল ফেলে খুঁজে পাওয়া ভাত্রিপ্রতিম বন্ধু সোমনাথ দে কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করি হরিদ্বার এর উদ্দেশ্যে । আমি ও সোমনাথ দুজনেই যথাক্রমে অফিসে ও বাড়িতে অর্ধসত্য বলি । আমি নিজের উন্নতির জন্য যোগ-ধ্যান শিবিরের কথা বলি আর সোমনাথ আমার পরিবারের সাথে হরিদ্বার-হৃষীকেশ-লছমনঝোলা ঘোরার কথা বলে । সোমনাথের কল্যাণে ওর বাবার কাছে চিরকুমার আমি কিছুক্ষণের জন্য বৌ-বাচ্চার মালিক হয়ে যাই ! মিথ্যা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও কোনোও মহাপুরুষ যেন বলেছিলেন ভাল কাজের জন্য মিথ্যা বললে সেটা মিথ্যা হয়না ! প্রথমে আমরা সতপন্থ তালের পরিকল্পনা করেছিলাম কিন্তু আরও কয়েকজন শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়ায় আমরা রূপকুণ্ডের কথা ভাবি । যদিও সোমনাথ শেষ পর্যন্ত আসবে কিনা আমি নিশ্চিত ছিলাম না । ও ট্রেক করতে আসছে শুনলে ওর বাবা কিছুতেই ছাড়তো না। তাই একার জন্য আমার প্ল্যান সি তৈরী ছিল দেওরিয়া তাল - চোপতা - তুঙ্গনাথ - চন্দ্রশীলা আর মদমহেশ্বরকে নিয়ে । এগুল তুলনামূলক ভাবে সোজা আর একা যেতেও কোন ঝামেলা নেই । তুলনায় রূপকুন্ড উচ্চতা ও কাঠিন্যে অনেক এগিয়ে । আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না যে দুজন অনভিজ্ঞ ট্রেকারের রূপকুন্ডে যাওয়া সমীচীন হবে কিনা । অক্সিজেন বা ঠান্ডার কারণে কোনও শারীরিক বিপত্তি ঘটলে আমরা খুবই বিপদে পড়তাম । এর আগে আমাদের সান্দাকফু-ফালুট ছাড়া অন্য বড় ট্রেকের অভিজ্ঞতা ছিলনা । পাহাড়ে ওঠার নেশাকে সম্বল করেই বেরিয়ে পড়ি তবে যাবার আগে দুজনেই নেট ঘেঁটে অনেক তথ্য জোগাড় করি আর শুধু লোহাজঙের গাইড নরেন্দ্র সিং এর সাথে দু-একবার ফোনে কথা বলি ।
০৩/০৬/১২ – আমি লাতুর থেকে সকালে বম্বে পৌঁছাই একটু দেরিতেই । দুশ্চিন্তা নিয়েই প্রায় শেষ মুহূর্তে দিল্লীর উড়ান ধরি । ভর দুপুরের দিল্লীর গরমে আমার সঙ্গী গ্লুকন ডি কারন কদিন আগেই ইনফেকটিভ হেপাটাইটিসে ভুগে উঠেছি । সোমনাথের সাথে ফোনে যোগাযোগ ছিলই । সোমনাথ আমার আগেই পৌঁছে গেছিলো আর
পয়সা বাঁচাতে তিন সফরসঙ্গীর সাথে স্টেশনের কাছে এক হোটেলে ওঠে । আমি পৌঁছলাম রাত
আটটার পর । হর-কি-পৌড়ি থেকে আমাকে নিতে এসেছিল, যদিও ভিড়ের জন্য সন্ধ্যায় গঙ্গারতি
কিছুই দেখতে পায়নি । স্টেশনের কাছেই সরকারি-বেসরকারি বাসস্ট্যাণ্ড, জীপস্ট্যাণ্ডও। কিন্তু তেমন কোনও খবর জোগাড় করা গেলনা । দাদাবউদির হোটেলে বাঙ্গালী খাবার খেয়ে হোটেলে যাই । ৫ জন হওয়ায় ২০০/- করে খরচ পড়ল বাতানুকুল ঘড়ের । ক্যামেরা টেস্ট করা হল , কিন্তু ব্যাটারি ঠিকমত কাজ না করায় ছবি তোলা নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা রয়েই গেল । আমার নিজের ক্যামেরাটা খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমার অন্য একটা ক্যামেরা সোমনাথ কলকাতা থেকে নিয়ে আসে । আর সেই কামেরার জন্য আমি দু ডজন ব্যাটারি কিনে নিয়ে আসি ।
# রাতের হরিদ্বার স্টেশন #
# সন্ধ্যারতির সময় হর - কি - পৌড়ি #
# দাদা বৌদির খাবার হোটেল #
# রাতের হরিদ্বার স্টেশন #
# সন্ধ্যারতির সময় হর - কি - পৌড়ি #
# দাদা বৌদির খাবার হোটেল #
০৪/০৬/১২ – ভোর ৫টায় বেরিয়ে যাই । জিএমওইউ
স্ট্যাণ্ড থেকে বাস ধরলাম । আমাদের গন্তব্য লোহাজঙ, কিন্তু সরাসরি বাস নেই এমনকি
কর্ণপ্রয়াগের বাসেও জায়গা না পেয়ে রূদ্রপ্রয়াগের বাসে উঠলাম । হৃষীকেশ – দেবপ্রয়াগ – শ্রীনগর হয়ে ৬ ঘন্টা সময়
লাগল । আবার বাসে কর্ণপ্রয়াগ । প্রচণ্ড গরম আর ধোঁয়াশায় প্রয়াগ গুল দৃষ্টিনন্দন লাগলনা । আরও কয়েকবার জীপ পালটে রাত ৯ টায় লোহাজঙ পৌঁছাই নারায়নবাগার
– থারালি – দেবল হয়ে । পিণ্ডার নদীর ধারে দেবল এখন বেশ জমজমাট । রাত হয়ে যাওয়ায়
থারালি থেকে লোহাজঙ ভায়া দেবল দুবার জীপ রিসার্ভ করতে হল ৪০০/- আর ৮০০/- টাকায় । থারালিতে জীপে বসে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হল , পরে অনেক মেয়ে এসে উঠলো , কিন্তু তারা মাঝরাস্তায় নেমে যাবে বলে বাকি রাস্তার জন্য আমাদের জীপটা বুক করতে হল । বিকালে যখন নরেন্দ্রাজীর সাথে কথা হয় তখন উনি দেবলেই ছিলেন , কিন্তু আমরা গিয়ে আর পাইনি । তবে ওনার চেনাজানা শাহুজীর দোকানে উঠি, উনিই জীপ ঠিক করে দেন । হরিদ্বার
থেকে জীপ রিসার্ভ না করায় সস্তার তিন অবস্থার ১৫ ঘন্টার প্রণান্তকর ধকল হজম
করতে হল প্রায় ২৪০ কিমি রাস্তায় ! গিয়ে দেখলাম নরেন্দ্রজী ইণ্ডিয়া
হাইকসের
লোকাল ম্যানেজার হয়ে কাজ করছে , যারা নির্ঝঞ্ঝাট রুপকুণ্ড করাচ্ছে । তাদের
আস্তানাতেই রাত কাটালাম । নরেন্দ্রজীর সাথে আলোচনাও সেরে নিলাম । উনি সব
ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দিলেন । ৮০০০ ফিট উচ্চতায় পৌঁছে হাল্কা ঠাণ্ডায়
শরীরটা জুড়াল । কিন্তু আমার ক্যামেরায় সাধারন ব্যাটারি কাজ করছিলোনা বলে মনটা খিঁচিয়ে ছিল ।
# দেবল #
# দেবল #
০৫/০৬/১২ – সক্কাল বেলায় গাইড নারায়ণ এসে ঘুম
ভাঙ্গাল । তারপর সেই সব ব্যবস্থা করতে লাগল । যদিও
প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটা ক্রাইসিস তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেছে । একটি ঘোড়া সহ পোর্টার গুড্ডু কে পাওয়া গেল। নারায়ণ
রান্নার জিনিসপত্র নিয়ে আসল । স্থানিও
দোকান থেকে রসদ নেওয়া হল । কেরোসিনের অভাবে গমকল থেকে ডীজেল নেওয়া হল । লোহাজঙ এ ট্রেকিং এর সবকিছুই
কিনতে বা ভাড়ায় পাওয়া যায় । আমি আরও কিছু ব্যাটারি কিনি, তখন কাজ করলেও পরে আর ঠিকঠাক কাজ করেনি । উপরে টেন্ট পাওয়া যাবে তাই টেন্ট নেওয়া হয়নি । ঠাণ্ডায় আর চান করার চেষ্টা করিনি । আলুপরটা আর চা খেয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করতে ১০
টা বেজে গেল । আমাদের গন্ত্যব্য দিদিনা , দূরত্ব
প্রায় ৭ কিমি । যদিও অনেকেই গাড়ীতে আরও এগিয়ে ওয়ান গিয়ে ট্রেক শুরু করে ।
প্রথমেই নামা । আমাদের রুকস্যাকও ঘোড়ার পিঠে । তাই নাচতে নাচতে
নামতে গিয়ে আমার অতি বিশ্বস্ত হাঁটুযুগলের ডানদিকের টি বিগড়ে গেল ! আড়াই ঘণ্টার উৎরাই পথ তখন প্রাণান্তকর লেগেছিল ।
যদিও রডডেনড্রন-ওক-পাইনের জঙ্গলে ঘেরা পথটা বেশ সুন্দর । একটা ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম আর নীলগঙ্গা নদী পার
হয়ে এবার একটা প্রাণান্তকর চড়াই পথ । হালকা বৃষ্টিও শুরু হল । আমি প্রায় এক পায়েই
উঠতে থাকলাম । পথে হাওড়ার চার যুবকের সাথে আলাপ হল । মনের সুখে ছবি তুলতে পারছিলাম না , সোমনাথকেও বারণ করছিলাম , যাতে রুপকুন্ড পর্যন্ত ছবি তোলা যায় মোট ৫ ঘণ্টা ট্রেক করে বিকাল
৩ টা নাগাদ বৃষ্টিভেজা দিদিনায় পৌঁছলাম । ছবির মত সুন্দর মাটি-পাথরের দোতলা বাড়িতে
উঠলাম । এটাই এখানকার থাকার ব্যবস্থা , হোম-স্টে । উচ্চতা ৮০০০ ফিট, তাই ঠাণ্ডাও হালকা । চা
খেয়েই লেগে গেলাম খিচুড়ি বানাতে এদের কাঠের উনুনে । সাহায্যে নারায়ন । হাওড়ার
বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরেই সন্ধ্যাটা কাটল । ওরা আমাকে একটা স্প্র্রে লাগাতে দিল ।
রাতে আবার হেঁশেলে ঢুকে ডিমেরঝোল আর ভাত রান্না করলাম, সাথে স্যালাড ।
# লোহাজঙ থেকে ট্রেক শুরু #
# লোহাজঙ থেকে ট্রেক শুরু #
০৬/০৬/১২ – গাইড-পোর্টারের রান্না করাতে বেশ
অনীহা, তবুও সকালে তারাই খিচুড়ি বানাল । সোমনাথ তার নীক্যাপ দিল, সেটা লাগিয়ে বেশ
স্বাচ্ছন্দ বোধ করলাম । আজও প্রায় ৯ টা বাজল বেরতে । শুরুতেই শুকনো পাতায় বিছানো
জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে কঠিন চড়াই । টোলাপানি হয়ে উঠলে চড়াই টা একটু সহজ হত । ঘণ্টা
চারেকে পৌঁছলাম খুপাল টপ এ । এখান থেকেই শুরু বিখ্যাত আলি বুগিয়ালের । বুগিয়ালের
সবুজ গালিচায় বসে ছাতু মেখে খেলাম । আকাশ পরিস্কার থাকলে অনেক
তুষারশৃঙ্গ দেখা যায় । আরও ঘণ্টা দুয়েক হেঁটে দেখা পেলাম আর এক বিখ্যাত বেদিনী বুগিয়ালের । প্রায় ১২ কিমি পথ ৭ ঘণ্টায় ট্রেক করে বেদিনী বুগিয়ালের ক্যাম্পে পৌঁছলাম বিকাল ৪ টা নাগাদ ।
উচ্চতা প্রায় ১২০০০ ফিট । সোনালি রোদ , আকাশে ত্রিশূল , নন্দাঘুন্টি বিদ্যমান । অন্যদিকটা মেঘলা থাকায় এর বেশি
পর্বতশৃঙ্গ দেখা গেলনা । এখানটায় ফরেস্টের
৫ টি হাট আর একটা ঝুপড়িও ছিল ,
যারা থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ছাড়াও ফোন করার সুবিধাও রেখেছিল । ইণ্ডিয়া হাইকসের টেন্টেই আমাদের জায়গা হল । আমরা রোদে ঘাসের উপরে
বসেই মুরি-বাদাম খেতে শুরু করি, চাও এসে যায় । ইহা’র বিরাট একটা দল রূপকুণ্ড করতে
ব্যর্থ হয়ে বেদিনী ফিরল । একটা হাট রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল , আমরাও
সেখানে আমাদের জিনিসেই ডিমেরঝোল ভাত বানালাম । ওদের ক্যাম্প ফায়ারেও যোগ দিলাম ।
বেশ ঠাণ্ডা । টেন্টের মধ্যেও বেশ অস্বস্তি হতে লাগল । আমাদের স্লীপিং ব্যাগও হয়ত
অধিক উচ্চতার জন্য উপযুক্ত ছিলনা, হয়ত বা আমরা উচ্চতা ও পরিবেশের সাথে মানিয়ে
নেবার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাইনি ।
# দিদিনা থেকে খুপাল টপ ওঠার পথে #
# বেদিনি বুগিয়াল #
# বেদিনি বুগিয়াল থেকে ত্রিশুল পাহাড় #
# দিদিনা থেকে খুপাল টপ ওঠার পথে #
![]() |
| # খুপাল টপে ওঠার আনন্দে # |
![]() |
| # আলী বুগিয়ালে এ ছাতু খেতে বসে # |
![]() |
| # আলী বুগিয়াল # |
![]() |
| # আলী বুগিয়ালের সম্পূর্ণ দৃশ্য # |
![]() |
| # বেদিনী বুগিয়ালের প্রথম দৃশ্য # |
![]() |
| # সোমনাথ বেদিনী বুগিয়াল ক্যাম্পে # |
# বেদিনি বুগিয়াল #
# বেদিনি বুগিয়াল থেকে ত্রিশুল পাহাড় #
০৭/০৭/১২ – সারারাত দুজনেরই ভাল ঘুম হয়নি । সকালটা মেঘলা । নারায়নের
কল্যাণে প্রাতঃরাশটা ওদের সাথেই হয়ে গেল । যদিও পেটরোগা দুজনেই তেল চপচপে পুরী-সব্জি
ভক্তি করে খেতে পারলাম না । ফরেস্ট গার্ড এসে ৪২৫/- র পরচি কেটে গেল । এরা টেন্টের পয়সা চায়নি আর আমরাও দেইনি । আজ ৭ টা নাগাদ বেরলাম । হাওড়ার বন্ধুরা বেদিনীতেই থেকে গেল মানিয়ে নেবার জন্য । বেদিনী কুণ্ডের পাশের ছোট্ট মন্দিরে
পুজা দেওয়া হল । বর্ষার পর কুণ্ডে যখন জল থাকে তখন নন্দাঘুন্টি আর ত্রিশূলের
অসাধারন প্রতিফলন দেখা যায়। শুরুতেই দূরে পাহাড়ের খাঁজে যেখানে
রাস্তাটা মিলিয়ে যেতে দেখা যায় সেটা ঘোড়ালোটানি । সামান্য চড়াই ভেঙ্গে সেখানে
পৌঁছে গেলাম । এরপর সহজ লম্বা পথ পাথরনাচুনি পর্যন্ত । আমরা বিশ্রাম নিতে নিতেই
এগচ্ছিলাম । এক বিদেশী দম্পতি যেন পাখির মত উড়ে গেল আমাদের টপকে ! পাথরনাচুনিতে
ফরেস্ট হাট আছে , বেদিনীর মত একটা ঝুপড়িও আছে । এখান থেকে দেখা যায়
সামনের পাহাড়ের মাথায় কলু বিনায়ক । কঠিন চড়াই । মনে আর হাঁটুতে জোর সঞ্চয় করে
লড়াইটা শুরু করে দিলাম ! মাঝপথে ছাতু খাবার আছিলায় বেশ খানিকটা
বিশ্রাম । পথের ধারে বরফ পেতে থাকলাম । কলু বিনায়ক এ ছোট্ট একটা মন্দির । মেঘলা
আবহাওয়া । আকাশ পরিস্কার থাকলে এখান থেকেও দারুন দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় । এখান
থেকে একটা সহজ পথ গিয়েছে বাগুয়াবাসা ক্যাম্পে । মে মাসে যারা এসেছিল তাদেরকে এখান থেকেই বরফ কেটে এগোতে
হয়েছিল । আমরাও এই পথে মাঝেমধ্যেই বরফে ঢাকা পেলাম। তখন থেকেই সোমনাথের নার্ভাস
হবার শুরু । প্রায় ৯ কিমি পথ ৯ ঘণ্টায় ট্রেক করে বিকাল ৪ টে নাগাদ
পৌঁছলাম । বাগুয়াবাসার উচ্চতা প্রায় ১৪০০০ ফিট । আবহাওয়া
মেঘলা , তবুও
ঠাণ্ডাটা ভালই লাগছিল । ইণ্ডিয়া হাইকসের টেন্টেই জায়গা হল । ওদের
স্লিপিং ব্যাগও পেলাম । এখানেও ফরেস্টের দুটি হাট আছে । এই সময় ইহা’র বিরাট দল রূপকুণ্ড করতে ব্যর্থ হয়ে খুব খারাপ অবস্থায় ফিরল । যেন কোনরকমে প্রান নিয়ে ফিরতে পেরেছে । তখনো আমরা দূরে দেখছিলাম আরও ৪ জন নামছিল । আমরা তাদের নামাটা দেখছিলাম । বড় দলটা ইতিমধ্যে বেরিয়ে গেল বেদিনীর উদ্দেশ্যে । জানিনা ওদের এমন বিদঘুটে সূচি হল কেন ! বাকি ৪ জন নামার পর দেখলাম দুজন ট্রেকার ব্যর্থ হয়ে বারবার বরফে আছাড় খেয়ে সম্পূর্ণ ভিজে শরীর নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে যেন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এল, বাকি দুজন গাইড । এরাও একটু পরে চলে গেল, জানিনা কি অবস্থা হয়েছিল তাদের । ক্যাম্পের পাশের বরফের উপর আমি একটু পা-পাকিয়ে নিলাম ! কিন্তু কিছুতেই সোমনাথকে বরফের উপর নিয়ে যেতে পারলাম না । অন্য এক গাইড ভুবনও তার দলকে বরফে নিয়ে গেল। তাদের সাথে আমাদের একপ্রস্থ আলোচনা হল । বিদেশীরা যাবেনা , আমরা দুই দলই যাব । সোমনাথ হাল ছেড়ে দিয়ে পরদিন আমাকে একাই যেতে বলল । আবহাওয়া আরও খারাপ হতে থাকল । আমরা তাঁবুর মধ্যে ঢুকে বাগুয়াবাসাতেও উচ্চকণ্ঠে রবীন্দ্রনাথকেই স্মরণ করতে লাগলাম , কখনো একলা চল রে বা কখনো ভেঙ্গে
মোর ঘড়ের চাবি ! তাই শুনে বিদেশী পুরুষটি বাঁশি বাজিয়ে শোনাল । পরে জানলাম, ওনারা
দার্জিলিং প্রবাসী , হিন্দি , বাংলাও জানে । আর ছিল নারী-পুরুষ মিলিয়ে দিল্লীর ৬
জন । আমরা তিনটে আলাদা দল একসাথেই খেলাম । শেষমুহুর্তে সোমনাথও সাহস সঞ্চয় করে “যা
হয় হবে দেখা যাবে” মনোভাব নিয়ে যাবার
সিদ্ধান্ত নিল । পরদিন কাকভোরে যাত্রা
শুরু হবে ঠিক হল ।
# বেদিনী কুন্ডের মন্দিরে পুজো #
# বেদিনি বুগিয়ালে ভেড়ার পাল #
# পাথর নাচুনি তে বসে দূরে কলু বিনায়ক দেখছি #
# বাগুয়াবাসা ক্যাম্প #
# বাগুয়াবাসা ক্যাম্প থেকে নন্দাঘুণ্টি পাহাড় #
# বাগুয়াবাসা ক্যাম্প থেকে আমাদের গন্ত্যব্য #
# তুষারপাতের পরে বাগুয়াবাসা থেকে রুপকুণ্ড #
# বাগুয়াবাসা থেকে রূপকুণ্ডের পথ #
# বেদিনী কুন্ডের মন্দিরে পুজো #
![]() |
| # বেদিনী কুন্ড মন্দিরে # |
![]() |
| # শুকনো বেদিনী কুন্ড # |
# বেদিনি বুগিয়ালে ভেড়ার পাল #
# পাথর নাচুনি তে বসে দূরে কলু বিনায়ক দেখছি #
![]() |
# বাগুয়াবাসা ক্যাম্প থেকে নন্দাঘুণ্টি পাহাড় #
# বাগুয়াবাসা ক্যাম্প থেকে আমাদের গন্ত্যব্য #
# তুষারপাতের পরে বাগুয়াবাসা থেকে রুপকুণ্ড #
# বাগুয়াবাসা থেকে রূপকুণ্ডের পথ #
০৮/০৬/১২ – ভোর ৪ টেয় ডেকে দিল । সারারাত
তুষারপাত হয়েছে , যদিও ভোরের আবহাওয়া ভালই মনে হল । উঠে আমি দুটো কাজ করলাম , নিজের পেটে জ্বালানী
ভরে নিলাম, আর রাস্তার জন্যও বানিয়ে নিলাম । জুতোয় ইহা’র ক্রাম্পন লাগিয়ে ৫ টায় যাত্রা শুরু হল । গাইডদের কাছে বাকি নানা
সরঞ্জাম । আমরা দুজন, দিল্লীর এক মহিলা সহ তিনজন আর ৪ জন গাইড মিলে মোট ৯ জন । আজকের
পুরো পথটাই প্রায় চড়াই আর বরফে ঢাকা, তাই বেশ কঠিন । মাসখানেক পরে বরফ গলে যাবার
পর আবার ততটাই সহজ । তখন এই পথে ব্রহ্মকমল , হেমকমল ইত্যাদি অধিক উচ্চতার পাহাড়ি
ফুল দেখতে পাওয়া যায় । ওদের গাইড ভুবন
আগে থেকে পথ বানাচ্ছিল বরফ কেটে । আমরা ওর পদাঙ্ক অনুসরণ করছিলাম । শুরু থেকেই
আমরা পিছিয়ে ছিলাম । উচ্চতা নিয়ে আমাদের মনে একটা ভয় ছিলই । এর আগে বরফের উপরে
হাঁটলেও সেটা ছিল বিনোদন , আর এখানে মুহূর্তের ভুলে প্রানসংশয় । মাঝপথে সোমনাথের
আনা কোকা-৩০ একডোজ খেয়ে নিলাম দুজনেই । ঠিক
৭-৩০ টায় আমরা প্রায় একসাথেই রূপকুণ্ডের মন্দিরে পৌঁছলাম । উচ্চতা প্রায় ১৬০০০ ফিট
। নিচে চারিদকে বরফের ঢালে ঘেরা বরফাবৃত রূপকুণ্ড । সেই মুহূর্তের অনুভূতি
ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় । সোমনাথ ষস্টাঙ্গে মন্দিরের সামনের বরফে শুয়ে পড়ল ।
এখানেও পূজা দেওয়া হল , প্রসাদ হল আমার আনা চিকি ! তারপর হটাৎ এক গাইড মোবাইলে
দারুন একটা গাড়োয়ালী গান চালিয়ে দিয়ে নাচতে থাকল । আমিও তাতে যোগ দিলাম, এবং একে
একে অন্যেরাও সেই স্বতস্ফূর্ত আবেগে ভেসে গেল । রূপকুণ্ড বা মিস্ট্রী লেকের গল্পটা
গাইডই শোনাবে, আমি রহস্যই রেখে দিলাম ! আমাদের সৌভাগ্য আবহাওয়া তখন দারুন সুন্দর ।
আমরা ঠিক করলাম জোনারগলি পাসেও উঠব ।
সোমনাথ আর ওই মহিলা এক গাইডকে নিয়ে নেমে যাবে , বাকি ৬ জন উঠবো । স্বর্গের
সিঁড়ি দিয়ে আমরা উঠতে শুরু করলাম । এক ঘণ্টায় পৌঁছেও গেলাম । উচ্চতা প্রায় ১৭০০০
ফিট । চারিদিকে ধবধবে সাদা বরফের উপরে
দাঁড়িয়ে , নীলাকাশে সাদা পেঁজা তুলোর মত মেঘ । এত স্বর্গই ! এমন জায়গায় পৌঁছানর
জন্য মৃত্যুকেও তুচ্ছজ্ঞ্যান করা যায় ।
চোখের সামনেই নন্দাঘুন্টি আর ত্রিশূল । আর নিচে শৈলসমুদ্র পার করে এই দুই পর্বতের
মধ্যে দিয়েই হোমকুণ্ড আর রন্টি স্যাডল যাবার পথ । সেখানে যেতে গেলে অগস্টে বা তার পরে
আসতে হবে । আমার ছাতুমাখা আর ওদের আপেল
ভাগ করে খাওয়া হল । এবার স্বর্গ থেকে বাস্তবে নেমে আসার কঠিন বাস্তবতা ! বরফের
রাজ্য থেকে কর্কশ পাথুরে জমিতে ফিরে আসা । তবুও নামার সময়েও সাবধানের ত্রুটি ছিলনা
। আমি অনেক দেরিতে সবার শেষে বাগুয়াবাসায় ফিরলাম ১০ কিমি
পথ ৭ ঘণ্টায় হেঁটে , তখন বেলা ১২ টা । ফিরে দেখি হাওড়ার বন্ধুদের মধ্যে
শুধু সৌমাশীষ হাজির , মানসিক ও শারীরিক
ভাবে বিদ্ধস্ত , বাকি তিনজন ওয়ান ফিরে গেছে । ওর তাঁবুতে বসেই আড্ডা মারতে লাগলাম
। আমাদের পেয়ে বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠল । দিল্লীর দলটাও চলে গেল । আমরা থেকে যাব ঠিক করলাম । আসলে ওই বরফের রাজ্য
থেকে ফিরতে মন চাইছিলনা । শুরু হল প্রবল তুষারপাত । খিচুরির সাথে তাঁবুর মধ্যে
আমাদের আড্ডাও জমে উঠল । আলাপ হল ওর গাইড বিখ্যাত মোহন সিং বিস্ত এর সাথে । বাগুয়াবাসাতে আজ আমরা তিনজন মাত্র । রাত্রে
ঠাণ্ডার প্রকপ থেকে বাঁচতে আমরা খালি হাটে গিয়ে ঢুকি তিনজনেই ।
সৌমাশীষ তার মোবাইলে অঞ্জন দত্তের বান্ধবী নাটক টা শোনাল । অসাধারন পরিবেশে অর্ণব - জয়িতার অনবদ্য প্রেমের গল্প ! পাহাড়কে যারা ভয়ডরহীন ভাবে ভালবাসে তাদের ভালবাসার খবর কেও
রাখেনা । অথচ জীবনে গভীর আঘাত না পেলে পাহাড়কে এইভাবে হৃদয় দিয়ে জড়িয়ে ধরা যায়না ।
# আমাদের রূপকুন্ড জয় #
# রূপকুন্ডে সোমনাথ #
# আমাদের রূপকুন্ড জয় #
![]() |
| # রূপ কুণ্ডের মন্দিরে আরাধনা # |
![]() |
| # রূপ কুন্ডে ওঠার আনন্দে # |
![]() |
| # গাইড নারায়ণের সাথে আমরা # |
![]() |
| # অসাধ্য সাধন করার পর সোমনাথ # |
# রূপকুন্ডে সোমনাথ #
# পরবর্তী গন্ত্যব্য জোনার / জোরয়ার গলি পাস #
# রূপকুন্ডে সোমনাথ #
# রূপকুন্ডে ওঠা ও নামার পথ #
# রূপকুন্ডে ওঠার শেষ পথটুকু #
# রূপ কুণ্ড থেকে জোনার গলি পাস যাত্রা #
# রূপ কুণ্ড থেকে জোনার গলি পাস যাত্রা #
# আমার জোনার গলি পাস জয় #
# জোনার গলি পাস থেকে মাউন্ট নন্দাঘুন্টি #
# জোনার গলি পাস থেকে #
# জোনার গলি পাস থেকে রূপকুন্ড #
# জোনার গলি পাস থেকে মাউন্ট ত্রিশূল #
# জোনার গলি পাস থেকে হোমকুন্ডের পথ #
# জোনার গলি পাস #
# জোনার গলি পাস #
# রূপকুন্ড থেকে ফেরার পথে #
# সম্পুর্ণ রূপ কুন্ড এলাকা #
![]() |
| # রূপকুন্ড থেকে # |
# রূপকুন্ডে ওঠা ও নামার পথ #
# রূপকুন্ডে ওঠার শেষ পথটুকু #
# রূপ কুণ্ড থেকে জোনার গলি পাস যাত্রা #
# রূপ কুণ্ড থেকে জোনার গলি পাস যাত্রা #
# আমার জোনার গলি পাস জয় #
# জোনার গলি পাস থেকে মাউন্ট নন্দাঘুন্টি #
# জোনার গলি পাস থেকে #
# জোনার গলি পাস থেকে রূপকুন্ড #
# জোনার গলি পাস থেকে মাউন্ট ত্রিশূল #
# জোনার গলি পাস থেকে হোমকুন্ডের পথ #
# জোনার গলি পাস #
# জোনার গলি পাস #
![]() |
| # জোনার গলি পাস থেকে ফেরার সময় বরফের রাজ্যে # |
![]() |
| # জোনার গলি পাস থেকে ফেরার সময় বরফের রাজ্যে # |
# রূপকুন্ড থেকে ফেরার পথে #
০৯/০৬/১২ – এবার ফেরার পালা । সকালে
সামান্য কিছু খেয়ে ৭ টায় বেরলাম বাগুয়াবাসা থেকে । একি পথে বেদিনী পৌঁছোতে দুপুর । বৃষ্টিও
ভোগাচ্ছিল । তুষারপাতও শুরু হয়ে গেল । খিচুরি খাওয়া হল । গাইড , বিশেষ করে
ঘোড়ায়ালা বাগড়া দিলেও আমরা ওয়ানের পথে রওনা দিলাম । কারন একদিন বাড়লেই হাজার খানেক টাকা গচ্চা যাবে ।
কঠিন উৎরাই পথ , সেটাও আবার বৃষ্টিভেজা শুকনো পাতায় বিছানো । এ যেন “ শুকনো পাতার সাজাই সরণি ...” ! দুজনেই
বারকয়েক পড়তে-পড়তে কিম্বা মরতে–মরতে বেঁচে গেলাম ! ছোট্ট ফরেস্ট ক্যাম্প গাইরলি পাতাল পার করে ,
নীলগঙ্গা পার করে সামান্য চড়াই । দূর থেকে ওয়ান ফরেস্ট ক্যাম্প দেখে ভাবছিলাম পথ
তাহলে ফুরাল , কিন্তু সেখান থেকেও গ্রাম অনেকটাই দূর । ২১ কিমি পথ প্রায় ১২ ঘণ্টা ট্রেক করে ৭টায় ওয়ান পৌঁছলাম । চা পান করার পরেও নারায়ণ যবার নাম করছিল না । রাত হয়ে যাওয়ায় পোর্টার গুড্ডু মানতে চাইছিল না , ওকে ২০০/- বেশী দিয়ে বিদায় জানালাম । উচ্চতা
৮০০০ ফিট , এখানেও
এক রাত কাটান যেত , কিন্তু আমরা নিরুপায় । এখান থেকে জীপ ভাড়াই করতে হবে, তাই
৮০০/- দিয়ে রাতেই লোহাজঙ পৌঁছে গেলাম । জিএমভিএন এ রাত কাটালাম । বিরাট ডর্মিতে আমরা দুজন মাত্র ১০০/- করে দিএ । ইহা’র আস্তানা নতুন দলে ভর্তি । নারায়ণকে ১০০/- বেশী দিয়ে আর বেঁচে যাওয়া মালপত্র দিয়ে বিদায় জানালাম ।
১০/০৬/১২ – গত কয়েকদিনে অনেক কষ্ট হয়েছে, বারবার জানতে চেয়েছি আর কতদূর , কতক্ষন সময় লাগবে ইত্যাদি । আজ ফেরার সময় মন চাইছে আবার সেই কষ্টের দুনিয়াতেই ফিরে যাই । লোহাজঙ থেকে সকাল ৬-৩০ টায় দিল্লীগামী একটা বাস ছাড়ে ।
এটায় হলদোয়ানি যাওয়া যাবে । পরেরটা ৭-৩০ টায় কর্ণপ্রয়াগ । সময়ের
গণ্ডগোলে আমরা সেটা পেলাম না । তবে সকালে শেয়ার জীপ পেলাম, বেলা হলেই ৮০০/- দিয়ে
ভাড়া করতে হত । আমাদের ধারনা ছিল ৮/৯ দিন লাগবে রুপকুন্ড করতে, কিন্তু আমরা ৫ দিনেই করে ফেলি, যদিও ৬ দিন লাগে। দেবল থেকে ৯টায় প্রেসের
জীপে কর্ণপ্রয়াগ । রুদ্রপ্রয়াগ , উখিমঠ
হয়ে বেঁচে যাওয়া ছুটিতে আমাদের গন্তব্য
দেওরিয়াতাল–চোপতা–তুঙ্গনাথ । সে অন্য গল্প ।
কিভাবে যাবেন – কলকাতা থেকে ট্রেনে হরিদ্বার
বা হলদোয়ানি / কাঠগোদাম গিয়ে ভাড়ার গাড়ী বা বাস / জীপে কর্ণপ্রয়াগ / থারালি হয়ে লোহাজঙ / ওয়ান । তারপর
৫/৭ দিনের ৭০ কিমি ট্রেক ।
স্থানীয় ব্যবস্থা – লোহাজঙ / ওয়ান এ গাইডরাই
সব ব্যবস্থা করে দেবে । নরেন্দ্র সিং - 9012171505/৮৯৫৮১০৮৩৮১/৯৪১০৪৮০৩০৮ , নারায়ণ সিং –
৯৪১১৫৬৪৫৭৮ , মোহন সিং – 9012173647/৯৬৩৯২৮৬২৯২ ।
আনুমানিক খরচ - গাইড ৫০০/- , ঘোড়া সহ পোর্টার
৩৫০/- , রান্নার সরঞ্জাম ১০০/- , টেন্ট ১৫০/-
দৈনিক । পারমিট ৫০০/- । ৪ জনের
দলের কলকাতা থেকে জনপ্রতি খরচ ১০০০০/- ।
আমাদের ৮০০০/- পড়েছিল ।
উৎসব – ২০১৩ জুলাই-অগস্টে নন্দাদেবী রাজ জাট
যাত্রা । প্রতি ১২ বছর অন্তর হয় । ওয়ান থেকে রূপকুণ্ড হয়ে হোমকুণ্ড পর্যন্ত ।
সঠিক সময় – মে’র শেষ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ।
ছবি – সৌজন্যে দীপঙ্কর রায় ও সোমনাথ দে । ক্যামেরা – নিকন কুলপিক্স এল-২৪ ও এল-২০ ।
লেখক পরিচয় – বেসরকারি হাসপাতালের একাউন্টস
বিভাগের প্রধান ( DGM , Accounts of Phenomenal Hospital
& Research Centre, Latur ) , লাতুর , মহারাষ্ট্র । কলকাতাকে কেন্দ্র করে বড় হয়ে উঠলেও গত ১০ বছর বাংলার বাইরে
আছি । ঘুরতে ভালবাসি । একটা শেষ করে এসে
পরেরটা নিয়ে ভাবতে শুরু করি । পূজায়
ভার্সে-সিঙ্গালিলা-ফালুট এর তথ্য সংগ্রহ নিয়ে এখন ব্যস্ত ।





















































