ভূমিকা - প্রথম পরিকল্পনা ছিল সতপন্থ তালের , লোক কমে যাবার কারণে সেটা বাস্তবায়িত হয়নি । আমি আর সোমনাথ দুজনে মিলে ৫ দিনে রূপকুণ্ড ঘুরে আসি দারুন ভাবে । আমাদের ধারণা ছিল পুরো ট্রেক টা করতে ৯/১০ দিন লাগবে , সেভাবে এখন করা গেলনা , মানে হোমকুণ্ড আর রন্টি স্যাডল সহ । তাই বারতি দিনগুলিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেই দেওরিয়া তাল , চোপতা আর তুঙ্গনাথ ঘোরার । সেই গল্পই এবার শোনাব ।
১০/০৬/১২ - সকালে লোহাজং থেকে বেরিয়ে দেবলে এসে নাস্তা সেরে প্রেসের গাড়িতে কর্ণপ্রয়াগ পৌঁছাই ভর দুপুরে । আজ একটু ভালো লাঞ্চ করি গত কয়েকদিনের থোর - বরি - খাঁড়া খাওয়ার পর ! এক অভিজ্ঞ দোকানদার আমাকে আ্যলকাইন ব্যাটারি দিল আর সেটা আমার ক্যামেরায় কাজ করলো । উখিমঠ যাবার কোনো বাস বা জীপ পাচ্ছিলাম না । একটা ভিড়ের বাসে উঠলাম জায়গাও হলো । এটা যাবে কেদারের পথে গৌরিকুণ্ড । আমরা কুণ্ডে নেমে গেলাম । এখান থেকে উখিমথ ৬ কিমি , দুরে পাহাড়ের মাথায় ভারত সেবাশ্রমের সুন্দর বিল্ডিং টা দেখা যাচ্ছিল । আমরা জিপেই গেলাম । উখিমঠ গিয়ে আর সারি যাবার কোনো জিপ পাচ্ছিলাম না । সবাই বুকিং এ যেতে রাজি । এখান থেকেও ৮ কিমি চড়াই ভেঙ্গে দেওরিয়াতাল পৌছানো যায় । কিন্তু রাতটা আমরা তালের ধারেই কাটাতে চাইছিলাম । অন্য একটা জিপে তালা পর্যন্ত গেলাম । তারপর ৩ কিমি সামান্য চড়াই গাড়ির রাস্তায় হেঁটে সারি গ্রামে পৌঁছলাম তখন প্রায় সন্ধ্যা । একটা দোকানে চা অমলেট খেতে বসলাম । তারাই উপরে টেন্টের ব্যবস্থা করে দেবে বলল , ৬০০/- চাইছিল , শেষে ২০০/- তে নামে । আমি তবুও রাজি হচ্ছিলাম না ।ততক্ষণে এক যুবক এসে নিজেকে বৃজমোহন বলে পরিচয় দেয় আর তার কথা ভ্রমন এ বেরিয়েছিল বলে দেখায় । একসময় খুব পরতাম এই পত্রিকা । তার সাথে কথা বলা শুরু করলাম ।এমনিতে এই জায়গা গুলো ঘোরার জন্য গাইডের দরকার হয়না । কিন্তু আমি দুটো কারণে নিতে চাইলাম , এক আমরা দেওরিয়াতাল থেকে ট্রেক করেই চোপতা যাব যেটা আবার সারি নেমে এসে গাড়িতে যাওয়া যেত । আর দুই যেহেতু দুজনেই ক্লান্ত আর সম্পূর্ণ ফিট ও নই , তাই স্যাক বইতে ইচ্ছে করছিলনা । আমরা ওকে পোর্টার কাম গাইড হিসেবে রাজি করাই দৈনিক ৪০০/-তে । ওর ভরসাতেই নিচ থেকে আর টেন্ট বুক করিনি । ২ কিমি চড়াই রাস্তা , ওঠার পথে বৃষ্টি নামল । আমি পথেই এক মন্দিরে আশ্রয় নিলাম ওরা আর একটু উপরে অপেক্ষা করছিল । তালে যখন পৌঁছলাম বেশ অন্ধকার , তাই বিশেষ কিছু বোঝা গেলনা । পাশাপাশি দুটো গুমটি দোকান । সুন্দর সিং এর দোকানে আমরা উঠলাম । কাছেই আমাদের টেন্টও লাগিয়ে দিল । অল্প অল্প ঠান্ডা ছিল ৮০০০ ফিট উচ্চতায় । ডিনার করে তারাতারি শুয়ে পরলাম । আর ঠিক করলাম কালকের দিনটাও এখানেই বিশ্রাম নেব ।
১১/০৬/১২ - ভোর বেলায় একবার উঠেছিলাম , কিন্তু রেঞ্জ ক্লিয়ার দেখা গেলনা বলে আবার শুয়ে পরি । বৃজমোহন এসে গেছিল , তাকে বলে দেই আমাদের না যাবার কথা । পরে হটাৎ আমাদের ইচ্ছে হয় আজ একটু মদ - মাংস খেতে । বৃজমোহনকেই দায়িত্ব দেওয়া হলো । সারি তে পাবার চান্স কম , না পেলে ওকে উখিমঠে যেতে হবে । আমরা নাস্তা করে তাল টা চারিদিক দিয়ে ঘুরলাম , অনেক ছবি তুললাম একটা পাখি খুব দেখা যাচ্ছিল , আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম ওটা ম্যাগপাই , কিন্তু পরে জানতে পারি ওটা ব্ল্যাক হেডেড জয় । পরে অবশ্য ম্যাগপাই ও দেখি । আমরা ছাড়াও আরো টেন্ট লাগানো ছিল, কিছু ট্যুরিস্ট এসেও ঘুরে যাচ্ছিল।তেমনি এক দলের বাচ্চাদের সাথে ক্রিকেট খেলে কাটাই কিছুক্ষণ । দিনের বেলায় বেশ গরম জুনে । এর পর আমরা দুজনে মগ বালতি নিয়ে এসে স্নান করলাম দেওরিয়া তালের জলে । সাবান মাখায় পার থেকে দূরে বালতিতে জল ভরে এনে স্নান করতে হলো । আমি একটু পুকুরে নেমে ডুব দিয়েছিলাম । ভয় লাগছিল অচেনা জল বলে আর পরের কাছে ভাঙ্গা কাঁচ সহ নানা জিনিস পরে থাকায় । বৃজমোহন ফেরেনি , তাই আমরা লাঞ্চ করে নিয়ে গাছ তলায় ম্যাট পেতে শুয়ে পরলাম, টেন্টের মধ্যে তখন আগুন । বাপারটা অনেকটা গ্রীষ্মের দুপুরে পারার পুকুর ধারের গাছ তলায় শুয়ে থাকার মতই ছিল । ভিউ না দেখা গেলে এই সময় দেওরিয়াতাল অতি সাধারণ । বিকালের দিকে বৃজমোহন মদ - মাংস নিয়ে হাজির হলো । সুন্দর সিং এর সাহায্যে আমিই শুরু করলাম রান্না । একবার সানসেট ভিউ দেখার জন্য বাইরে এসেছিলাম , যদিও তেমন কিছু দেখা যায়নি , তালের জলে যে প্রতিচ্ছবি দেখব বলে আজ থেকে গেলাম , তা আর দেখা হলনা , ফিরে দেখি আলুগুল কুচি কুচি করে কেটে ফেলেছে । লাতুরে আমার মারাঠি বন্ধুরাও প্রথমবার একই ভুল করেছিল । যাইহোক আবার আলু কাটা হলো । একেবারে বাঙালি কায়দায় মাখোমাখো গ্রেভির মুরগির মাংস রান্না হলো । তখন আলো আছে । আমরা টেন্টের বাইরে বসে গেলাম । আর দেওরিয়াতাল কে এভাবেই স্মরণীয় করে রাখলাম । আমরা অবশ্য কিছুই বেশি খেতে পারলাম না । বৃজমোহনরাই মেরে দিল সবটা । টানা ১০ দিন পথ চলা আর ট্রেক থেকে আজ সম্পূর্ণ বিশ্রামে কাটালাম । কাল আবার ট্রেক শুরু তাই তারাতারি শুয়ে পরলাম আমরা ।
১২/০৬/১২ - আজ সকালেও মনমোহিনী দৃশ্য তেমন দেখা গেলনা । বৃজমোহন সময়মত চলে এসেছিল । রুটি আলুর তরকারী খেয়ে সকাল ৮ টা নাগাদ আমরা রওনা দিলাম । কাল মাঝরাতে প্রচুর লোক এসেছিল । তাদের চিত্কারে ঘুম ভেঙ্গে গেছিল । সুন্দর সিংহের খাবার বিল মটকা গরম করে দেবার পক্ষে যথেষ্ট ছিল । ওই খাবারের এত দাম ! আমার পরামর্শ সর্বত্র দাম জেনে খাবার খান । পাহাড়ি মানুষের সততা এখন আর আগের মত প্রশ্নাতীত নয় । গাইড পোর্টাররাও আমাদের কম খরচে ঘুরতে সাহায্য করার থেকে আমাদের পকেট কাটতেই বেশি আগ্রহী । এদের পাল্টে যাবার অন্যতম কারণ কিছু ধনী - বিলাসী ট্রেকার আর ব্যবসায়ী ট্রেক অপারেটার । নন্দন থেকে যেমন চশমা আর হালকা দাঁড়ি সহ কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে পাজামা পাঞ্জাবির যুবকেরা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে , পাহাড় থেকেও তেমনি সত্যি কারের পাহাড় প্রেমী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে । কম খরচে ট্রেকিং করা কিছুদিনের মধ্যেই স্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে । তাল পার করে বনবাংলোর পাশ দিয়ে আমরা উঠতে থাকলাম । আজকের পথটাও বেশ লম্বা , ১৮ কিমি লম্বা , তবে খুব বেশি চড়াই নেই । বৃজমোহন আমাদের দুজনের স্যাক বইছে আর আমরা তার ছোট ব্যাগটা বইছি । প্রথম পাহাড়টায় ওঠার পর নিচে সারি গ্রামটা দেখা গেল , লেকটা ঢাকা পরে যাওয়ায় আর দেখা যাচ্ছিলনা । বিজু পাথরের খাঁজে ডিম সহ পাখির বাসা দেখালো । সত্যি ই এখানে প্রচুর পাখি । পক্ষী প্রেমীরা শুধু এজন্যেই এখানে আসতে পারেন । যাইহোক এই পথে এমন বেশ কয়েকটা ছোট ছোট চড়াই ভেঙ্গে যেতে হচ্ছিল । ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়েই পথ ।ভাল্লুক বা চিতা থাকা অসম্ভব কিছু নয় । মাঝপথে বিজু একটা জায়গা দেখিয়ে বলল এটা তামাক দেবতার থান। স্থানীয় লোকেরা এখানে এসে দেবীকে তামাক জাতীয় জিনিস পুজো দিয়ে যায় ।সোমনাথও সিগারেট দিয়ে পুজো দিল ! এর পরে আমরা পৌঁছলাম রনি বুগিয়ালে । এখানেও অনেকে ক্যাম্প করে থাকে । আমরা দেখতে পেলাম অর্জুন মুকুট পাহাড় , পাহাড়ের মাথাটা একদম একটা মুকুটের মত । একটা মহিষ আমাদের পিছু নিল । ঘন্টা দুয়েক সে আমাদের পিছন পিছন এলো । মাঝে তার তারাহুরোয় আমরা ভয় পেয়ে যাচ্ছিলাম । আকাশগঙ্গা নদীতে আমরা অনেকক্ষণ বিশ্রাম নিলাম, হালকা স্রোতের পাহাড়ি ঝোরা যা বর্ষায় অন্য রূপ নেয় । আমি স্নান করলাম , জন্মদিনের পোশাকে ! এমন সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে একটু আদিমতাকে উপভোগ করার সুযোগ টা আমি সব জায়গাতেই নিয়ে থাকি । এখানে কিছু কোবরা লিলি দেখা গেল । ছাতু মেখে খাওয়া হলো, এটা আমার লাতুর থেকে নিয়ে যাওয়া ছাতু , ঠিক ছাতু নয় তবে খেতে ভালই লাগলো । এরপর একটা চড়াই পার করে ঘন্টা খানেক হাঁটার পর চোপতার গাড়ির রাস্তায় এসে পরলাম । চোপতা এখানে থেকে আরো ২ কিমি । বেশ ভিড় তখন কারণ অনেক চারধাম যাত্রীরাই এখানে এসে তুঙ্গনাথ দর্শন করে বেরিয়ে যায় । থাকার জন্য খুব কম লোক ই এসেছিল । বিকাল ৩ টের পর আমরা পৌঁছাই চোপতায় । একটু ভালোমন্দ লাঞ্চ করি । তারপর আবার একটা কঠিন ট্রেক । যদিও বাঁধানো রাস্তা , কিন্তু ভীষন চড়াই প্রায় ৩ কিমি পথ । বিজুর খুব কষ্ট হচ্ছিল । কিন্তু আমরা কেও ই স্যাক বইবার মত অবস্থায় ছিলাম না । হাঁটুর সাথে আমার লোয়ার ব্যাক পেন টাও ভোগাচ্ছিল আর সোমনাথেরো হাঁটুর ব্যথা শুরু হয়েছিল, যদিও ও রাস্তায় স্যাক টা বয়েছিল । এই পথে মাঝে মধ্যেই দোকান , একপিঠের জন্য ৪০০/- তে ঘোড়াও পাওয়া যাচ্ছিল । প্রচুর লোক তখন নেমে আসছিল । আমরা আসতে আসতেই উঠছিলাম, বিজু আগে চলে গেছিল । যেতে যেতে সোমনাথ কয়েক'শ টাকা কুড়িয়ে পায় , কিন্তু কাওকে ফেরত দেবার কোনো উপায় নেই , তাই আমরা ঠিক করি তুঙ্গনাথের চরণেই ওটা দিয়ে দেব । এই পথে লেজহীন ইন্দুর দেখা যায় । তাদের ক্যামেরা বন্দী করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হলো । প্রায় শেষ দিকে আরাম চটিতে অপেক্ষা করছিল বিজু । সে হটাৎ তার টাকা হারানোর কথা বলে । আর ঠিকঠাক বলে দেয়ায় ওর টাকা ওকে আমরা দিয়ে দিলাম । ও চা খাওয়ালো আমাদের । সন্ধ্যায় তুঙ্গনাথে পৌঁছলাম যদিও এখানে অন্ধকার নামে দেরীতে, প্রায় ৭ টাতে । এখানে প্রচুর থাকার জায়গা । ২০০/- তে বিজু একটা ঘর ঠিক করেই রেখেছিল । আমরা ঘরে বিশ্রাম না নিয়ে মন্দিরের পথেই এগোলাম এবং ঠিক তখনি সন্ধ্যারতি হওয়ায় তা দেখার সৌভাগ্য হলো । পঞ্চকেদারের একটি হলো এই তুঙ্গনাথ, উচ্চতা প্রায় ১২০০০ ফিট । একটা সুন্দর সন্ধ্যা পেলাম দিনভর কষ্টের পর । রাতে আর বিশেষ কিছু করার ছিলনা ডিনার করে শুয়ে পরলাম ,কারন পরদিন ভোর বেলায় উঠে চন্দ্রশিলা যেতে হবে ।
১৩/০৬/১২ - ভোরে চারটের সময় উঠে গেলাম । বাইরে তখন অন্ধকার । ঠান্ডাও বেশ । আপাদমস্তক মুড়ে নিয়ে আমরা চন্দ্রশিলার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । মন্দিরের পাশের রাস্তা দিয়ে আমরা এগোতে থাকলাম . হটাত একটা ভয় ভয় ভাব . মনে হয় কোনো বন্য পশু . পরে দেখা গেল কিছু এই দিককার পাহাড়ি হরিন ঘুরে বেড়াচ্ছে . দূর থেকে আবছা ভাবে তাদের দেখা গেল . ১.৫ কিমি রাস্তা পুরোটাই খারাই . ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে চন্দ্রশিলা তপে পৌছে গেলাম . সূর্যোদয় হলো , কিন্তু যে ভিউ দেখার জন্য লোকে এখানে আসে তার কিছুই দেখতে পেলাম না . একটা চত্ব মন্দির , যা প্রায় সব জায়গাতেই থাকে . তবে শীতকালে এই পথে ভরপুর বরফ থাকে তখন আসলে রোমাঞ্চ বেসি . আর ভিউ পেতে গেলে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ভালো সময় . খুব সহজে বরফের উপর ট্রেক করতে চাইলে এখানে শীতকালে চলে আসা যেতে পারে . এমনকি এপ্রিল পর্যন্ত মনে হয় বরফ থাকে . যাইহোক আমরা নেমে এসে মন্দিরটা আর একবার ঘুরে হোটেলে ফিরে নাস্তা করলাম . এখানেও খাবারের বিল দেখে মাথা গরম হয়ে যাবে . নামতে আমার কষ্ট হতনা কিন্তু এবার তের পেলাম আমি হুর হুর করে নামতে পারছিনা . এটাই বুরত্বের লক্ষণ ! সোমনাথ নামার সময় নিজের ব্যাগটা বয়িল . চপ্তায় নেমে কোনো শেয়ার গাড়ি পাওয়া গেলনা , যাবে কিনা তার ও ভরসা দিচ্ছিলোনা বিজু . বারবার ইনসিস্ট করছিল গাড়ি বুক করার জন্য . আমরা প্রায় ঘন্টা পাঁচেক অপেক্ষা করি রাস্তার উপরে . তেমন বসার জায়গা নেই হোটেল গুলু তারাতারি খদ্দের দের উঠিয়ে দেয় . লাঞ্চ ও করিনি . বিজুও আমাদের সাথে ছিল . কানাঘুস শুনছিলাম ২.৩ তের পরে জীপ বা ভুখা হরতাল পাওয়া যেতে পারে . ভুখা হরতাল হলো বাসের নাম ! ইতিমধ্যে অন্য জিপের সাথেই কথা চলছিল . একটা আমাদের নিয়ে যাবে বলেও পরে অন্যলোক ভরে চলে যায় . যাইহোক শেয়ার জিপ ও এলো কিন্তু তাতে তিলধারণের জায়গা নেই . অথচ এই পথের গুরুত্ব কিছু কম নয় . এটা গপেস্ব্র হয়ে চলে গেছে জশিমথে . মানে কেদার থেকে বদরী বা উল্তপত্র্হের যাত্রীরা এই পথটাকেই ব্যবহার করে এখন . বৃজ্মহনের হিসেব চুকিয়ে দিলাম ৩ দিনের জায়গায় ৪ দিনেরই দিতে হলো আর দুদিনের তেন্তের ভার ১৫০/- করে , মোট ২০০০/- দেওয়া হলো . এ ছাড়াও নিজেদের শতকে যা ছিল তাও খালি করে দিয়ে দিলাম . শেষে এলো ভুখা হরতাল কোনরকমে তাতে জায়গা পেলাম . এটা যাবে গৌরিকুন্দ , তাই আমাদের সেই কুন্দেই নেমে যেতে হলো তখন বিকাল ৪ তে . গুটিকয়েক দোকান পাশেই বয়ে চলেছে মন্দাকিনী . কিন্তু খাবার দোকান তেমন নেই , একটা দোকানে ম্যাগি আর চা খেলাম আমরা . খিদের মুখে ঝোলে ভেজা ম্যাগি যেন অমৃত সমান ! জিপের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম পাওয়া জজ্বে কিনা ঠিক নেই . হটাত একটা একদম খালি জীপ পেয়ে গেলাম . যেটা অগস্ত্যমুনি তে কলেজ ছাত্রীদের তুলে ভর্তি হয়ে গেল . সন্ধ্যার সময় রুদ্রপ্রযাগ এ পৌছে গেলাম . ব্রিজ পার করে আমরা আবার কেদারের পথেই কিছুটা গিয়ে কালিকম্লি ধরম্শালাতে গেলাম . একেবারে নদীর ধরেই . কিন্তু খুব বাজে ব্যবহার পেলাম . আমাদের একটা ৬০০/- র ঘর অনেক দরদাম করে ৩০০/- তে দিতে চেয়েছিল আমরা ২০০/- তে আটকে ছিলাম আর এও বলছিলাম আমাদের ঘরের দরকার নেই কোনো হল ঘরে থাকতে দিলেই হবে , আর কিছু লাগবে না . দিল পাকা না হওয়ায় , আমরা পিছনের বারান্দায় বসে গেলাম . আমি স্নান ও করে দিলাম . আমাদের ভাব গতিক দেখে বারান্দায় থাকা এক বৈষ্ণব জুটি ম্যানেজার কে কাঠি করে আসলো . তারা আবার আমাদের কে চলে যেতে বলল , কিন্তু আমি নর্ছিলাম না সোমনাথ একটু পুতু পুতু করছিল , তাই ওকে বললাম যা ৩০০/- তেই পাকা করে aআয় . oও আসার পর আমরা ঘরে ঢুকে গেলাম আর প্রায় সাথে সাথেই অন্য একটা দোল এসে বলল ঘরটা ওদের . ম্যানেজার ও এসে তাই বলল , আমাদের বেরিয়ে যেতে হলো ঘর থেকে . জানিনা সোমনাথ কিভাবে পাকা করে এসেছিল , অর কথা কেও সুন্লই না . আমরা বারান্দাতেই বসেছিলাম , হটাত কেয়ার টেকার তা এসে পাসের হল ঘরে ঢুকিয়ে দিল , সেখানে আর একজন ই ছিল , এর জন্য তাকে আমাদের ১০০/- দিতে হবে তখনি ব্যাটা মাল খেয়ে ছিল . এটাই যদি আমাদের প্রথমে দিয়ে দিত আমাদের এইহেনস্থা হতনা . বিখ্যাত কালিকম্লির লোকেরাও যে এত ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে তা জানা ছিল না . এদের উপরে খাবার জায়গায় অবশ্য ৬০/- তে সাদা খানা তা বেশ ভালই .
১৪/০৬/১২ - সকালে নাস্তা করেই বেরোলাম আমরা . ব্রিজ তা পার হয়েই হরিদ্বারের বাস পেয়ে গেলাম কিন্তু উল্টোদিকে হায়ে একটু অবাক ও হয়েছিলাম পরে দেখলাম ওটা কেদারের পথে কিছুটা এগিয়ে বাইপাস ধরে হরিদ্বারের রাস্তা ধরে . বেলা বাড়ার সাথে সাথে গরম ও বাড়তে লাগলো সমানে গ্লুকোম দি , নিম্বু পানি শসাএইএইসোব খেতে থাকলাম . আবার সেই শ্রীনগর , দেব প্রয়াগ পার করে হরিদ্বার পৌছাতে দুপুর ২ তো হয়ে গেল . রিক্সাবালা আমাদের একটা সস্তা হোটেলে নিয়ে গেল দুদিনের জন্য ৬০০/- . আমরা হোটেল থেকে বেরিয়ে দাদা বৌদির পাসের বৈষ্ণবী হোটেলে সামনি খেলাম . তারপর পরদিনের হরিদ্বার হৃষিকেশ দর্শনের বুকিং করলাম ৯০/০ করে . সোমনাথের টিকিট কাটা ছিলনা . এখন কাতার ও কোনো মানে হয়না চালু টিকেট কেটেই যাবে ঠিক হলো . আমরা হর কি পুরি হেন্তেই গেলাম সন্ধ্যারতি দেখতে প্রচন্ড ভিড় . ভিড়ের পিছন থেকেই যা দেখা যায় তাই দেখলাম . তারপর গলির ভিতরে ঢুকে খুঁজে খুঁজে আসল পান্দেজির প্যানরা কিনলো ২৪০/- করে কিলো . ঘরে ফিরে আবার ভালো করে স্নান করলাম তারপর রাত্রে দাদা বৌদির হোটেলে খেয়ে স্টেসনে দেখতে গেলাম সোমনাথের ট্রেনের অবস্থা . বেগতিক দেখে সোমনাথ ঠিক করলোকাল সকালে উঠে ওয়েটিং লিস্ট টিকিট ই কেটে রাখবে .
১৫/০৬/১২ - সকালে উঠেই সোমনাথ টিকিট কাট তে ছলে যায় । ফিরতে দেরী হচ্ছিল বলে আমি ই ওকে দেকে পাঠাই । বলি সাইট সিন দেখে এসে বিকালে টিকিট কাট তে , তখন ফাঁকাই থাকে । কোন এক্তা স্কুল গ্রাউনড থেকে বাস ছাড়ার কথা । এখানেও সস্তার এক অবস্থা , ৯০/- তে জা হয় আর কি । সব লক ভরানোর জন্ন্য ঘণ্টা খানেক দেরি করল । তার উপর গরম। তাই সবারি মতকা গরম হয়ে গেল শুরুতেই । আনন্দময়ী আশ্রম , দক্ষের মন্দির ঘুরে সোজা হৃষীকেশ । গরমে অসজ্য অবস্থা । তারপর অনেকটা হাঁটাহাঁটিও ছিল । আদি বদ্রি , লক্ষ্মণ মন্দির , সুভেনির শপ হয়ে লক্ষ্মণ ঝোলা পার হয়ে লাঞ্চ । তারপরে জিপে কিছুটা গিয়ে স্বরগাশ্রম হয়ে রামঝলা পার হয়ে জিপে করে বাস স্ট্যান্ডে । ভারতমাতা মন্দিরে এসে আমরা আলাদা জিপে স্টেশনে চলে এলাম । লাইন ফাঁকাই ছিল , সোমনাথ টিকিট কেটে নিল । হোটেলে ফিরে আবার স্নান করলাম। তারপর দাদা বউদির হোটেলে খেয়ে সোমনাথ কে তুলে দিতাম গেলাম। কিন্তু ট্রেন অনেক আগেই দিয়ে দেওয়ায় টয়লেটের পাশের জায়গাও ঝগড়া করে আদায় করতে হল । ওকে কুম্ভের পেটে বসিয়ে আমি হোটেলে ফিরে আসি । আমার পরদিন সকালে ট্রেন দিল্লীর , তারপর মুম্বাই হয়ে লাতুরে ফিরলাম ১৭ তারিখ সকালে, সোমনাথও সাতসকালে পৌঁছে বাড়ি পৌঁছে গেছিলো । সব ভাল যার শেষ ভাল !
১২/০৬/১২ - আজ সকালেও মনমোহিনী দৃশ্য তেমন দেখা গেলনা । বৃজমোহন সময়মত চলে এসেছিল । রুটি আলুর তরকারী খেয়ে সকাল ৮ টা নাগাদ আমরা রওনা দিলাম । কাল মাঝরাতে প্রচুর লোক এসেছিল । তাদের চিত্কারে ঘুম ভেঙ্গে গেছিল । সুন্দর সিংহের খাবার বিল মটকা গরম করে দেবার পক্ষে যথেষ্ট ছিল । ওই খাবারের এত দাম ! আমার পরামর্শ সর্বত্র দাম জেনে খাবার খান । পাহাড়ি মানুষের সততা এখন আর আগের মত প্রশ্নাতীত নয় । গাইড পোর্টাররাও আমাদের কম খরচে ঘুরতে সাহায্য করার থেকে আমাদের পকেট কাটতেই বেশি আগ্রহী । এদের পাল্টে যাবার অন্যতম কারণ কিছু ধনী - বিলাসী ট্রেকার আর ব্যবসায়ী ট্রেক অপারেটার । নন্দন থেকে যেমন চশমা আর হালকা দাঁড়ি সহ কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে পাজামা পাঞ্জাবির যুবকেরা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে , পাহাড় থেকেও তেমনি সত্যি কারের পাহাড় প্রেমী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে । কম খরচে ট্রেকিং করা কিছুদিনের মধ্যেই স্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে । তাল পার করে বনবাংলোর পাশ দিয়ে আমরা উঠতে থাকলাম । আজকের পথটাও বেশ লম্বা , ১৮ কিমি লম্বা , তবে খুব বেশি চড়াই নেই । বৃজমোহন আমাদের দুজনের স্যাক বইছে আর আমরা তার ছোট ব্যাগটা বইছি । প্রথম পাহাড়টায় ওঠার পর নিচে সারি গ্রামটা দেখা গেল , লেকটা ঢাকা পরে যাওয়ায় আর দেখা যাচ্ছিলনা । বিজু পাথরের খাঁজে ডিম সহ পাখির বাসা দেখালো । সত্যি ই এখানে প্রচুর পাখি । পক্ষী প্রেমীরা শুধু এজন্যেই এখানে আসতে পারেন । যাইহোক এই পথে এমন বেশ কয়েকটা ছোট ছোট চড়াই ভেঙ্গে যেতে হচ্ছিল । ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়েই পথ ।ভাল্লুক বা চিতা থাকা অসম্ভব কিছু নয় । মাঝপথে বিজু একটা জায়গা দেখিয়ে বলল এটা তামাক দেবতার থান। স্থানীয় লোকেরা এখানে এসে দেবীকে তামাক জাতীয় জিনিস পুজো দিয়ে যায় ।সোমনাথও সিগারেট দিয়ে পুজো দিল ! এর পরে আমরা পৌঁছলাম রনি বুগিয়ালে । এখানেও অনেকে ক্যাম্প করে থাকে । আমরা দেখতে পেলাম অর্জুন মুকুট পাহাড় , পাহাড়ের মাথাটা একদম একটা মুকুটের মত । একটা মহিষ আমাদের পিছু নিল । ঘন্টা দুয়েক সে আমাদের পিছন পিছন এলো । মাঝে তার তারাহুরোয় আমরা ভয় পেয়ে যাচ্ছিলাম । আকাশগঙ্গা নদীতে আমরা অনেকক্ষণ বিশ্রাম নিলাম, হালকা স্রোতের পাহাড়ি ঝোরা যা বর্ষায় অন্য রূপ নেয় । আমি স্নান করলাম , জন্মদিনের পোশাকে ! এমন সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে একটু আদিমতাকে উপভোগ করার সুযোগ টা আমি সব জায়গাতেই নিয়ে থাকি । এখানে কিছু কোবরা লিলি দেখা গেল । ছাতু মেখে খাওয়া হলো, এটা আমার লাতুর থেকে নিয়ে যাওয়া ছাতু , ঠিক ছাতু নয় তবে খেতে ভালই লাগলো । এরপর একটা চড়াই পার করে ঘন্টা খানেক হাঁটার পর চোপতার গাড়ির রাস্তায় এসে পরলাম । চোপতা এখানে থেকে আরো ২ কিমি । বেশ ভিড় তখন কারণ অনেক চারধাম যাত্রীরাই এখানে এসে তুঙ্গনাথ দর্শন করে বেরিয়ে যায় । থাকার জন্য খুব কম লোক ই এসেছিল । বিকাল ৩ টের পর আমরা পৌঁছাই চোপতায় । একটু ভালোমন্দ লাঞ্চ করি । তারপর আবার একটা কঠিন ট্রেক । যদিও বাঁধানো রাস্তা , কিন্তু ভীষন চড়াই প্রায় ৩ কিমি পথ । বিজুর খুব কষ্ট হচ্ছিল । কিন্তু আমরা কেও ই স্যাক বইবার মত অবস্থায় ছিলাম না । হাঁটুর সাথে আমার লোয়ার ব্যাক পেন টাও ভোগাচ্ছিল আর সোমনাথেরো হাঁটুর ব্যথা শুরু হয়েছিল, যদিও ও রাস্তায় স্যাক টা বয়েছিল । এই পথে মাঝে মধ্যেই দোকান , একপিঠের জন্য ৪০০/- তে ঘোড়াও পাওয়া যাচ্ছিল । প্রচুর লোক তখন নেমে আসছিল । আমরা আসতে আসতেই উঠছিলাম, বিজু আগে চলে গেছিল । যেতে যেতে সোমনাথ কয়েক'শ টাকা কুড়িয়ে পায় , কিন্তু কাওকে ফেরত দেবার কোনো উপায় নেই , তাই আমরা ঠিক করি তুঙ্গনাথের চরণেই ওটা দিয়ে দেব । এই পথে লেজহীন ইন্দুর দেখা যায় । তাদের ক্যামেরা বন্দী করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হলো । প্রায় শেষ দিকে আরাম চটিতে অপেক্ষা করছিল বিজু । সে হটাৎ তার টাকা হারানোর কথা বলে । আর ঠিকঠাক বলে দেয়ায় ওর টাকা ওকে আমরা দিয়ে দিলাম । ও চা খাওয়ালো আমাদের । সন্ধ্যায় তুঙ্গনাথে পৌঁছলাম যদিও এখানে অন্ধকার নামে দেরীতে, প্রায় ৭ টাতে । এখানে প্রচুর থাকার জায়গা । ২০০/- তে বিজু একটা ঘর ঠিক করেই রেখেছিল । আমরা ঘরে বিশ্রাম না নিয়ে মন্দিরের পথেই এগোলাম এবং ঠিক তখনি সন্ধ্যারতি হওয়ায় তা দেখার সৌভাগ্য হলো । পঞ্চকেদারের একটি হলো এই তুঙ্গনাথ, উচ্চতা প্রায় ১২০০০ ফিট । একটা সুন্দর সন্ধ্যা পেলাম দিনভর কষ্টের পর । রাতে আর বিশেষ কিছু করার ছিলনা ডিনার করে শুয়ে পরলাম ,কারন পরদিন ভোর বেলায় উঠে চন্দ্রশিলা যেতে হবে ।
১৩/০৬/১২ - ভোরে চারটের সময় উঠে গেলাম । বাইরে তখন অন্ধকার । ঠান্ডাও বেশ । আপাদমস্তক মুড়ে নিয়ে আমরা চন্দ্রশিলার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । মন্দিরের পাশের রাস্তা দিয়ে আমরা এগোতে থাকলাম . হটাত একটা ভয় ভয় ভাব . মনে হয় কোনো বন্য পশু . পরে দেখা গেল কিছু এই দিককার পাহাড়ি হরিন ঘুরে বেড়াচ্ছে . দূর থেকে আবছা ভাবে তাদের দেখা গেল . ১.৫ কিমি রাস্তা পুরোটাই খারাই . ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে চন্দ্রশিলা তপে পৌছে গেলাম . সূর্যোদয় হলো , কিন্তু যে ভিউ দেখার জন্য লোকে এখানে আসে তার কিছুই দেখতে পেলাম না . একটা চত্ব মন্দির , যা প্রায় সব জায়গাতেই থাকে . তবে শীতকালে এই পথে ভরপুর বরফ থাকে তখন আসলে রোমাঞ্চ বেসি . আর ভিউ পেতে গেলে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ভালো সময় . খুব সহজে বরফের উপর ট্রেক করতে চাইলে এখানে শীতকালে চলে আসা যেতে পারে . এমনকি এপ্রিল পর্যন্ত মনে হয় বরফ থাকে . যাইহোক আমরা নেমে এসে মন্দিরটা আর একবার ঘুরে হোটেলে ফিরে নাস্তা করলাম . এখানেও খাবারের বিল দেখে মাথা গরম হয়ে যাবে . নামতে আমার কষ্ট হতনা কিন্তু এবার তের পেলাম আমি হুর হুর করে নামতে পারছিনা . এটাই বুরত্বের লক্ষণ ! সোমনাথ নামার সময় নিজের ব্যাগটা বয়িল . চপ্তায় নেমে কোনো শেয়ার গাড়ি পাওয়া গেলনা , যাবে কিনা তার ও ভরসা দিচ্ছিলোনা বিজু . বারবার ইনসিস্ট করছিল গাড়ি বুক করার জন্য . আমরা প্রায় ঘন্টা পাঁচেক অপেক্ষা করি রাস্তার উপরে . তেমন বসার জায়গা নেই হোটেল গুলু তারাতারি খদ্দের দের উঠিয়ে দেয় . লাঞ্চ ও করিনি . বিজুও আমাদের সাথে ছিল . কানাঘুস শুনছিলাম ২.৩ তের পরে জীপ বা ভুখা হরতাল পাওয়া যেতে পারে . ভুখা হরতাল হলো বাসের নাম ! ইতিমধ্যে অন্য জিপের সাথেই কথা চলছিল . একটা আমাদের নিয়ে যাবে বলেও পরে অন্যলোক ভরে চলে যায় . যাইহোক শেয়ার জিপ ও এলো কিন্তু তাতে তিলধারণের জায়গা নেই . অথচ এই পথের গুরুত্ব কিছু কম নয় . এটা গপেস্ব্র হয়ে চলে গেছে জশিমথে . মানে কেদার থেকে বদরী বা উল্তপত্র্হের যাত্রীরা এই পথটাকেই ব্যবহার করে এখন . বৃজ্মহনের হিসেব চুকিয়ে দিলাম ৩ দিনের জায়গায় ৪ দিনেরই দিতে হলো আর দুদিনের তেন্তের ভার ১৫০/- করে , মোট ২০০০/- দেওয়া হলো . এ ছাড়াও নিজেদের শতকে যা ছিল তাও খালি করে দিয়ে দিলাম . শেষে এলো ভুখা হরতাল কোনরকমে তাতে জায়গা পেলাম . এটা যাবে গৌরিকুন্দ , তাই আমাদের সেই কুন্দেই নেমে যেতে হলো তখন বিকাল ৪ তে . গুটিকয়েক দোকান পাশেই বয়ে চলেছে মন্দাকিনী . কিন্তু খাবার দোকান তেমন নেই , একটা দোকানে ম্যাগি আর চা খেলাম আমরা . খিদের মুখে ঝোলে ভেজা ম্যাগি যেন অমৃত সমান ! জিপের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম পাওয়া জজ্বে কিনা ঠিক নেই . হটাত একটা একদম খালি জীপ পেয়ে গেলাম . যেটা অগস্ত্যমুনি তে কলেজ ছাত্রীদের তুলে ভর্তি হয়ে গেল . সন্ধ্যার সময় রুদ্রপ্রযাগ এ পৌছে গেলাম . ব্রিজ পার করে আমরা আবার কেদারের পথেই কিছুটা গিয়ে কালিকম্লি ধরম্শালাতে গেলাম . একেবারে নদীর ধরেই . কিন্তু খুব বাজে ব্যবহার পেলাম . আমাদের একটা ৬০০/- র ঘর অনেক দরদাম করে ৩০০/- তে দিতে চেয়েছিল আমরা ২০০/- তে আটকে ছিলাম আর এও বলছিলাম আমাদের ঘরের দরকার নেই কোনো হল ঘরে থাকতে দিলেই হবে , আর কিছু লাগবে না . দিল পাকা না হওয়ায় , আমরা পিছনের বারান্দায় বসে গেলাম . আমি স্নান ও করে দিলাম . আমাদের ভাব গতিক দেখে বারান্দায় থাকা এক বৈষ্ণব জুটি ম্যানেজার কে কাঠি করে আসলো . তারা আবার আমাদের কে চলে যেতে বলল , কিন্তু আমি নর্ছিলাম না সোমনাথ একটু পুতু পুতু করছিল , তাই ওকে বললাম যা ৩০০/- তেই পাকা করে aআয় . oও আসার পর আমরা ঘরে ঢুকে গেলাম আর প্রায় সাথে সাথেই অন্য একটা দোল এসে বলল ঘরটা ওদের . ম্যানেজার ও এসে তাই বলল , আমাদের বেরিয়ে যেতে হলো ঘর থেকে . জানিনা সোমনাথ কিভাবে পাকা করে এসেছিল , অর কথা কেও সুন্লই না . আমরা বারান্দাতেই বসেছিলাম , হটাত কেয়ার টেকার তা এসে পাসের হল ঘরে ঢুকিয়ে দিল , সেখানে আর একজন ই ছিল , এর জন্য তাকে আমাদের ১০০/- দিতে হবে তখনি ব্যাটা মাল খেয়ে ছিল . এটাই যদি আমাদের প্রথমে দিয়ে দিত আমাদের এইহেনস্থা হতনা . বিখ্যাত কালিকম্লির লোকেরাও যে এত ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে তা জানা ছিল না . এদের উপরে খাবার জায়গায় অবশ্য ৬০/- তে সাদা খানা তা বেশ ভালই .
১৪/০৬/১২ - সকালে নাস্তা করেই বেরোলাম আমরা . ব্রিজ তা পার হয়েই হরিদ্বারের বাস পেয়ে গেলাম কিন্তু উল্টোদিকে হায়ে একটু অবাক ও হয়েছিলাম পরে দেখলাম ওটা কেদারের পথে কিছুটা এগিয়ে বাইপাস ধরে হরিদ্বারের রাস্তা ধরে . বেলা বাড়ার সাথে সাথে গরম ও বাড়তে লাগলো সমানে গ্লুকোম দি , নিম্বু পানি শসাএইএইসোব খেতে থাকলাম . আবার সেই শ্রীনগর , দেব প্রয়াগ পার করে হরিদ্বার পৌছাতে দুপুর ২ তো হয়ে গেল . রিক্সাবালা আমাদের একটা সস্তা হোটেলে নিয়ে গেল দুদিনের জন্য ৬০০/- . আমরা হোটেল থেকে বেরিয়ে দাদা বৌদির পাসের বৈষ্ণবী হোটেলে সামনি খেলাম . তারপর পরদিনের হরিদ্বার হৃষিকেশ দর্শনের বুকিং করলাম ৯০/০ করে . সোমনাথের টিকিট কাটা ছিলনা . এখন কাতার ও কোনো মানে হয়না চালু টিকেট কেটেই যাবে ঠিক হলো . আমরা হর কি পুরি হেন্তেই গেলাম সন্ধ্যারতি দেখতে প্রচন্ড ভিড় . ভিড়ের পিছন থেকেই যা দেখা যায় তাই দেখলাম . তারপর গলির ভিতরে ঢুকে খুঁজে খুঁজে আসল পান্দেজির প্যানরা কিনলো ২৪০/- করে কিলো . ঘরে ফিরে আবার ভালো করে স্নান করলাম তারপর রাত্রে দাদা বৌদির হোটেলে খেয়ে স্টেসনে দেখতে গেলাম সোমনাথের ট্রেনের অবস্থা . বেগতিক দেখে সোমনাথ ঠিক করলোকাল সকালে উঠে ওয়েটিং লিস্ট টিকিট ই কেটে রাখবে .
১৫/০৬/১২ - সকালে উঠেই সোমনাথ টিকিট কাট তে ছলে যায় । ফিরতে দেরী হচ্ছিল বলে আমি ই ওকে দেকে পাঠাই । বলি সাইট সিন দেখে এসে বিকালে টিকিট কাট তে , তখন ফাঁকাই থাকে । কোন এক্তা স্কুল গ্রাউনড থেকে বাস ছাড়ার কথা । এখানেও সস্তার এক অবস্থা , ৯০/- তে জা হয় আর কি । সব লক ভরানোর জন্ন্য ঘণ্টা খানেক দেরি করল । তার উপর গরম। তাই সবারি মতকা গরম হয়ে গেল শুরুতেই । আনন্দময়ী আশ্রম , দক্ষের মন্দির ঘুরে সোজা হৃষীকেশ । গরমে অসজ্য অবস্থা । তারপর অনেকটা হাঁটাহাঁটিও ছিল । আদি বদ্রি , লক্ষ্মণ মন্দির , সুভেনির শপ হয়ে লক্ষ্মণ ঝোলা পার হয়ে লাঞ্চ । তারপরে জিপে কিছুটা গিয়ে স্বরগাশ্রম হয়ে রামঝলা পার হয়ে জিপে করে বাস স্ট্যান্ডে । ভারতমাতা মন্দিরে এসে আমরা আলাদা জিপে স্টেশনে চলে এলাম । লাইন ফাঁকাই ছিল , সোমনাথ টিকিট কেটে নিল । হোটেলে ফিরে আবার স্নান করলাম। তারপর দাদা বউদির হোটেলে খেয়ে সোমনাথ কে তুলে দিতাম গেলাম। কিন্তু ট্রেন অনেক আগেই দিয়ে দেওয়ায় টয়লেটের পাশের জায়গাও ঝগড়া করে আদায় করতে হল । ওকে কুম্ভের পেটে বসিয়ে আমি হোটেলে ফিরে আসি । আমার পরদিন সকালে ট্রেন দিল্লীর , তারপর মুম্বাই হয়ে লাতুরে ফিরলাম ১৭ তারিখ সকালে, সোমনাথও সাতসকালে পৌঁছে বাড়ি পৌঁছে গেছিলো । সব ভাল যার শেষ ভাল !
No comments:
Post a Comment