< শায়িত বুদ্ধের কোলে সান্দাকফু তে >
বিঃদ্রঃ > নীচের ছবিতে ক্লিক করলে ছবিগুল বড় আকারে ও পরপর দেখা যাবে ।
টিকিট কাটার পরবর্তী তিন মাসে আরো অনেক কিছু ঘটে গেছে ।আমি নেট ঘেঁটে বা বন্ধুদের কাছ থেকে খবর সংগ্রহ করেছি । মানেভঞ্জনের মাস্টারজী জীবনদার সাথে কথা বলি । ঘড়ের ব্যাপারে একটু চিন্তায় ফেলে দিলেও চলে আসতে বললেন ।সান্দাকফু রুটে ট্রেকার দের কাছে অতি পরিচিত এই জীবনদা । এর কথা আমি জানতে পারি আমার নেট এর বন্ধু সাম্য রায় এর ব্লগ থেকে । ওদের গাইড পিটার কেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করি , কিন্তু পাইনি । দোসরা অক্টোবর এ নির্দিষ্ট সময়েই আমরা মোহরকুঞ্জে মিলিত হই । তার আগে ওখানেই "আড্ডাবাজ বাঙ্গালী " দেরও জমায়েত ছিল, দুপুরে ঘুমিয়ে পড়ায় আসতে দেরী করে ফেলি, তবুও যার সাথে আমার বেশী বন্ধুত্ব সেই জবা অপেক্ষা করে ছিল, আর যারা চলে গেছিল তাদের মধ্যে হেমু আর লোপার সাথে পরে একদিন জবার বাড়িতে লাঞ্চে দেখা হয়েছিল । আমরা ৫ জন ছাড়াও আরো অনেকে এসেছিল। শিবদার বাড়িতে বসে নৈশ আহার দিয়ে যার শেষ হয় । ইতিমধ্যে মতবিরোধ হওয়ায় সুব্রত রাগ করে চলে যায় , আর সন্দাকফুতেও যাবে কিনা অনিশ্চিত । আমার সাথে বাক্যালাপ বন্ধ । পরদিন আমাদের বাংরিপশি বা অন্য কোথাও বেড়াতে যাবার কথা ছিল, কিন্তু হলনা । তার বদলে আমি শিবদার দলে ঢুকে গেলাম । সেই রাতেই সুব্রতর বাড়ি থেকে আমার মালপত্র নিয়ে চলে এলাম শিবদার বাড়িতে । সপ্তমীর সাতসকালে আমরা বেরোলাম, সাথে সোমনাথ ছাড়াও তাদের দুজন বন্ধু প্রলয় আর পানদা । আমরা যাব বিষ্ণুপুর - মুকুটমনিপুর - মাইথন । সে অন্য গল্প । পুজো কাটিয়ে এরপর আমাদের দেখা হবে একাদশীর দিন দার্জিলিং মেলে।
# মোহরকুঞ্জের মিলনমেলায় #
০৭/১০/১১ ঃ আমরা যথা সময়ে শিয়ালদা ষ্টেশনে পৌঁছে দার্জিলিং মেল ধরি । একমাত্র শিখার মা ও এক বন্ধু ছাড়তে এসেছিল । শিবদাও এসেছিল ছাড়তে । সবাই খেয়েই এসেছিল, আমি যথারীতি বাঙ্গালীর ট্রেনের খাবার লুচি - আলুরদম বার করে খেলাম। ইতিমধ্যে আমাদের ৫ জনের সম্পর্ক একটা জটিল অবস্থায় পৌঁছায় । তাই ট্রেনের আড্ডা তেমন জমল না । আমরা সবাই শুয়ে পড়ি । কেওই হয়ত ঘুমায়নি । কারন রাত ১২ টায় আমার জন্মদিন । কেও কেও শুভেচ্ছা জানালেও রাত টা তেমন ভাল ভাবে উদযাপিত হলনা । কেক কাটা না হোক ট্রেক করা তো হচ্ছে । আর কে না জানে এই দুটো ব্যাপার পরস্পর বিপরীত মুখে অবস্থান করে ।
০৮/১০/১১ - সকাল ৮ টায় পৌঁছে গেলাম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে । শুরু হয়ে যায় গাড়ীর খোঁজ । বুথ থেকে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি পাওয়া যায়না অথচ পাশেই প্রচুর গাড়ি যারা বেশী ভাড়া নিচ্ছে । মানেভঞ্জন পর্যন্ত ৩৫০০/- চাইছে । রাজ্যপাটে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসলেও নাগরিক দুর্দশা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেছে । শেয়ার গাড়িতে আমরা জংশন চলে গেলাম। সেখান থেকে ১৫০/- করে দার্জিলিং এর জীপ ধরলাম । রাস্তায় মাঝে নাস্তা করা হল , সুব্রতর আনা কেক ও ছিল । রাস্তার অবস্থা শোচনীয় , এ যেন নরকে যাবার রাস্তা । মন কেমন করা ঘুম এই আমাদের নামতে হলো । সোজা রাস্তা টা দার্জিলিং চলে গেছে , আমরা যাব বাঁদিকের মিরিকের রাস্তায় । জীপ বুক করতে হলো ৫০০/- য় । লেপচাজগত , সুখিয়াপোখরী হয়ে আমরা মানেভঞ্জন পৌছলাম দুপুর ২ টো নাগাদ । বাজার এলাকাটা খুব ঘিঞ্জি আর নোংরা , তার উপর বৃষ্টি ভেজা কর্দমাক্ত । একটা সাদামাটা চেহারার লোক আমাদের জীবনদার হোটেল এক্সোটিকা নিয়ে গেল । জীবনদার এটা পারিবারিক ব্যবসা । হাতমুখ ধুয়ে লাঞ্চ করে নিলাম। ডাল , আলুভাজা ডিমের ঝোল ভাত ৮০/- করে নিল । আমাদের ট্রেকের ব্যাপারেও আলোচনা হল । কিন্তু উনি খুব বেশী আগ্রহ দেখালেন না , এও বললেন সান্দাকফু তে জায়গা পাওয়া যাবেনা , তবে ফালুট এ পেয়ে যাব । আর ওই লোকটিকেই দেখিয়ে দিলেন , ওই আমাদের নিয়ে যাবে । যাকে দেখে প্রথম থেকেই আমার বিন্দুমাত্র ভক্তি হচ্ছিলনা । নাম শান্তা । তাকে নিয়ে গাইড অফিসে গিয়ে পরচি কাটালাম । কিছু টাকা দিতে হলো আর বাকিটা ট্যুর শেষ হবার পরে দিতে হবে । শান্তাই বলল আমরা চিত্রে তে জায়গা পেয়ে যাব , ও পরের দিন আমাদের সাথে যোগ দেবে । বিকাল ৪ টে নাগাদ আমরা রওনা দিলাম । ২ কিমি রাস্তা , কিন্তু খাড়াই। ট্রেকারদের প্রথমেই এখানে জিব বেরিয়ে যায় । মাঝপথে আবার বৃষ্টি শুরু হল , কিছুটা ভিজতেই হল । যেখান থেকে মানেভঞ্জন টা দেখা যায় , আমি সেখান থেকে শর্টকার্ট ধরি , আর পৌঁছে যাই ঝোপ - জঙ্গল আর জোঁকের রাজত্বে । জোঁকের কবলে পরলাম। আর আমি এই দুনিয়ায় সবথেকে বেশী ঘেন্না আর ভয় করি এই জোঁক । এই প্রথম আমার ভূগোল জ্ঞান আমাকে ঘোল খাইয়ে ছাড়ল । ঘন্টা খানেক সময় নষ্ট করে আবার সেখানেই ফিরে এলাম আর ঝকঝকে সোজা রাস্তা দিয়ে উঠে যখন চিত্রে পৌছলাম তখন অন্ধকার নেমে এসেছে। আর আমার এই আ্যডভেঞ্চারের জন্য আমি দুর্লভ দ্বৈত রামধনুর দৃশ্য মিস করি । ঠান্ডাটা ভালই লাগছিল , তাই বেশী ধোয়াধুয়ি করা গেলনা, বাইরেও বেরোতে ইচ্ছা করলনা। আমাদের একটা বড় ঘর দিয়েছিল। আমরা ফ্রেশ হয়ে নিয়ে দু দুবার অমলেটের অর্ডার দিয়ে যে যার বোতল বের করে পেগ বানিয়ে বসে গেলাম । জাস্ট দু পেগ । শিখা মনের দুঃখ্যে র' মেরে দিল , আর তারপর সারারাত নাটক করে গেল । ডিনার টাও ভক্তি করে খাওয়া গেলনা । বাইরের ঠান্ডায় কিছুক্ষণ ঘুরলাম , কিন্তু বিশেষ কিছু দেখা গেলনা। রাতভর কারোরই ঠিকমত ঘুম হলনা ।
০৯/১০/১১ - ভোর বেলায় উঠে কিছু ছবি তোলা হল । আংশিক কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছিল , উপরে উঠলে আরও বেশী দেখা যেত । শান্তাও চলে এল সময়মত । প্রাতরাশ সেরে বেরতে ৮ টা বেজে গেল । ততক্ষণে নিচে থেকেও অনেক ট্রেকার চিত্রে চলে এসেছে । আপার চিত্রে হয়ে আমরা ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই লামেধুরা পৌঁছে গেলাম । দোকান গুল নেপালে আর রাস্তা টা ভারতে । এরকম এই রুটে প্রায়ই দেখা যায় । ডিমসেদ্ধ আর চা খাওয়া হল । বিশ্রাম নিয়ে আমরা মেঘমার দিকে এগতে থাকলাম । কুয়াশায় ঢাকা মেঘমার পথ । দীপাঞ্জন হাঁটু ধরে বসে পরল, আর তারপর থেকে খুঁড়িয়েই চলতে থাকল । মেঘমায় বসে আবার কিছু খাওয়া । এখানেও পাশেই নেপাল । এখান থেকে একটা পথ তুমলিং অন্যটা টংলু টপ এ গেছে । শিখা আর দীপাঞ্জন এর জন্য আমরা ধীরেই চলতে থাকলাম । তাতে অসুবিধা কিছু নেই । শান্তা শিখার কষ্ট দেখে ওর ব্যাগটা নিয়ে নেয় । প্রায় বিকালে আজকের গন্তব্য তুমলিং এ পৌঁছে গেলাম । প্রচুর ভিড় আর গাড়ি । জায়গাটা আমার খুব একটা ভাল লাগল না । তবে এখান থেকেও সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় । গাড়িতে ধোত্রে এসে টংলু হয়েও তুমলিং পৌঁছানো যায় । নিলাদি আর শিখর লজের কথা অনেক পরেছিলাম , কিন্তু কোথাও আমাদের জায়গা হলনা । ৯ কিমি রাস্তা যেতে আমাদের প্রায় ৭ ঘণ্টা লেগে গেল । শান্তা আমাদের পরবর্তী গন্তব্যে নিয়ে চলল । কিছুটা এগিয়েই সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের গেট , পরচি কাটতে হল । আর তার পরেই বাঁদিকে একটা হোটেল । ভালই, কিন্তু আমাদের সবাই এখানে থাকার ব্যাপারে মত দিলনা । আমরা নুডুলস খেলাম । এখান থেকে ডান দিকের রাস্তাটা গেছে গৈরিবাসের দিকে আর বাঁদিকেরটা গেছে নেপালের জৌবারিতে । আমরা জৌবারির দিকেই এগোতে থাকলাম । আমি সবার শেষে হাঁটছিলাম । আজ প্রায় ১০ ঘণ্টার ট্রেক করতে হল । শান্তা আমাদের নিয়ে গেল ইন্দিরা লজে । সেটা প্রায় নরক । ঘরের মধ্যেই উপরের একটা কুঠুরিতে আমাদের জায়গা হল । সেখানে ওঠাও একটা চাপের ব্যাপার । কাঠের ছাদ মাথায় ঠেকে যায় । লাইট থাকলেও তা জ্বলছিলনা । বিছানায় বোটকা গন্ধ । ভীতরে আর বাইরের দুটো টয়লেট এর অবস্থাই নারকীয় । কিন্তু ট্রেক করতে আসলে এসবের সাথে মানিয়ে নিতেই হবে । যাইহোক আমরা ক্লান্তি কাটাতে যে যার পেগ বানিয়ে বসে গেলাম । ওরা যে খাবার দিয়ে গেল, রুটি তরকারি , খুব কষ্ট করেও খুব বেশী খাওয়া গেলনা । শিখা আজও ভুল করে জয়দীপের র' ভদকা খেয়ে ফেলল জল ভেবে, আর তার পর সারারাত তার শুস্রশা করেই কেটে গেল । এমনকি মধ্যরাতে জীপ ডেকে শিলিগুড়ি যাবার কথাও ভাবা হয়েছিল । সেই সময় লজের মালকিন সহ অন্যরা এবং আমাদের গাইড শান্তা এত সাহায্য করেছিল যা ভুলবার নয় । লজের অন্য যাত্রীরাও অসীম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে বিন্দুমাত্র বিরক্তি প্রকাশ করেনি । একটা চরম দুশ্চিন্তার রাত একসময় ভোর হয়ে গেল ।
১০/১০/১১ - সকালটা বেশ ঝকঝকে ছিল । এভারেস্ট , কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছিল , কিন্তু পাহাড়ের মাথায় উঠে সে ছবি তোলার মত অবস্থা আমাদের ছিলনা । আমরা ঠিক করলাম , আমি আর জয়দীপ শান্তা কে নিয়ে ট্রেক জারি রাখব, ওরা একদিন বিশ্রাম নিয়ে পরদিন গাড়িতে হয় ফিরে যাবে অথবা সান্দাকফুতে যাবে । আমরাও আজ কালাপোখরিতে কাটিয়ে পরদিন সান্দাকফু পৌঁছাব । আমাদের ট্রেক করাও হবে আর শিখাও সুস্থ হএ উঠবে আর পায়ে চোট পাওয়া দিপাঞ্জন বা পায়ে রড বসান সুব্রতর কাওকেই শেষ খাঁড়াইটা চড়তে হবেনা । যাইহোক আমরা ৮ টা নাগাদ রওনা দিলাম । প্রথমেই একটা বাজে উৎরাই রাস্তা, জলে ভেজা, ইতস্তত বোল্ডারে বিছান । আমার নামতে কোন কষ্ট নেই, জয়দীপের একটু আসুবিধা হচ্ছিল । ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই সবুজে ঘেরা গৈরিবাসে পৌঁছে গেলাম । এসএসবি ক্যাম্প আর গোটা কতক থাকা খাওয়ার জায়গা । এর পরেই একটা মারাত্মক চড়াই । আমরা খুব ধিরে উঠতে থাকলাম । শান্তা আমাদের একটা রুকস্যাক নিতে চাইলেও আমরা কেও দেইনি । ইজ্জত কা সওয়াল হ্যায় ! এই সময় প্রচুর ট্রেকার , অনেকের সাথে আলাপও হল । যেজন্য জায়গা পাওয়া নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা সবসময় ছিল । তবে শান্তা ই সব ব্যাবস্থা করছিল, আমরা ওর উপরেই ভরসা করে ছিলাম । চড়াইটা পার করার পর আরও কিছুটা সহজ পথ পেরিয়ে পৌঁছলাম কয়াকাঁটায় । অমলেট আর চা সহ বিশ্রাম । এই পথে অমলেটটাই সস্তা আর সর্বত্র ১৫/-। একটা বড় দলের সাথে আলাপ হল । যাদের দুজন পুরুষ পঞ্চাশোর্ধ, একজন স্লো বাট স্টেডি অন্যজন পাখির মত উড়ে যায় । আর মহিলাদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত মোটা , কিন্তু লক্ষে স্থির । এদের দেখে আমরাও অনেকটা মনের জোর পেলাম । যদিও এদের সাথে পোর্টার ছিল । কয়াকাঁটা থেকে দুটো রাস্তা , একটা নতুন গাড়ির রাস্তা, অন্যটা বন্ধ করে দেওয়া গাড়ির রাস্তা , আমরা পরের টাই ধরলাম । ঘণ্টা খানেক হেঁটে পৌঁছে গেলাম কালাপোখরিতে । হটাৎ ঠাণ্ডায় আমরা কেঁপে উঠলাম । পাথরের আড়ালে গিয়ে গরম পোশাক পরে নিলাম । পুকুরটা তখন কুয়াশায় ঢাকা । আসলে একটা দিক খোলা , আর সেদিক থেকেই আসছিল ঠাণ্ডা হাওয়া । পুকুরটা পার করে উপরের দিকে যেতেই দেখি, শান্তাও এগিয়ে আসছে , কিন্তু আপাদমস্তক ঢেকে রাখা আমাদের প্রথমে চিনতে পারেনি । কিছুটা এগিয়েই প্রথম হোটেলটাই সিঙ্গালিলা , সেখানেই আমরা উঠলাম । ডাবল রুম ৩০০/- । ৭ ঘণ্টা হেঁটে বিকাল ৩ টায় পৌঁছলাম । ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করলাম । জয়দীপ ইয়াকের মাংস ট্রাই করল , কিন্তু চিবিয়ে সুবিধা করতে পারলনা । পরে জায়গাটা একটু চক্কর মারলাম, অনেক হোটেল আছে, জৌবারির মতই জমজমাট । ওদের সাথে যোগাযোগ করার কোন উপায় নেই । মোবাইল ফোন প্রায় অচল এই পথে । এখানে রাত্রে জেনারেটর চলে, চার্জ দিয়ে চার্জ দেওয়া যায় ! মালিকের মেয়ে পাসান্দ ই সর্বময়ী কর্তৃ । লম্বা চুল , সুশ্রী আরও সুন্দর তার ব্যবহার । রাত্রে অন্য গাইড আর ট্রেকাররা ভীর করেছিল পাসান্দের রান্নাঘরে । রস্কি খেতে খেতে তারা গান বাজনায় মেতে উঠেছিল । আমরা একটু পরে যোগ দিয়েছিলাম । সবারই লক্ষ পাসান্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করা । সে নিজে অভ্যস্ত হাতে রান্না আর পরিবেশনে ব্যস্ত । তার বাবা পরে আমাকে মেয়ের গল্প শোনায় । জানিনা কেন ,ওনার মনে হয় আমাকে পছন্দ হয়ে গেছিল কোনও কারনে । অবশ্য পাসান্দও আমার নজর কেরে নিয়েছিল । যাইহোক হোটেলটা এনার দাদার, এরা সেটা চালায় । পাসান্দ ওনার নিজের মেয়ে নয়, উনি যখন কলকাতায় কাজ করতেন তখন মা-বাবা মরা মেয়েটিকে দত্তক নিয়েছিলেন । পরে এখানে চলে আসেন ওকে নিয়ে । এখন সে রিম্বিকের স্কুলে ক্লাস টেনে পরে । আর সিজনে হোটেল চালাতে চলে আসে । ক্লাস টেন অনুযায়ী চেহারাটা বেশ বড় । সহজেই যুবকদের নজরে পরে যায় । চার্জের চার্জ আমার কাছ থেকে একটু কমই নিল । গত দুরাত ঘুম না হবার পর, আজ নিশ্চিন্তে ঘুমালাম । সবথেকে বিপদে পরেছিল জয়দীপ , ও না পারছিল গিলতে না পারছিল ফেলতে !
১১/১০/১১ - রাতে ভালই ঘুম হয়েছিল । পুকুরের উপরে একটা গুহা আর দেবতার থান আছে , সেখানে পুজো দিয়ে আমরা সকাল সকাল যাত্রা শুরু করলাম । কারন আগে গিয়ে থাকার জায়গা পাবার জন্য । কিছুটা যাবার পর পেলাম বিকেভঞ্জন । এখানেও একটা চেকপোস্ট আছে । পরে জানতে পারি এখানকার কর্মী পাসান্দ ও খুব বিখ্যাত । কারন বহুবছর আগে ছোট্টো পাসান্দ এক বাঙ্গালী ট্রেকারের মানিব্যাগ অনেকটা পথ গিয়ে ফেরত দিয়ে এসেছিল । তিনি আবার বিখ্যাত আর লেখক । তিনিই আপামর বাঙ্গালীকে এই পাসান্দ এর কথা শুনিয়েছিলেন । আমিও এই পাসান্দকে দেখেছি, এখন যুবতি । বিকে তে একটা ঝুপড়ি দোকানে আমরা নাস্তার অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম । ওই বড় দলটাও এসে এখানেই খাবার অর্ডার দিল। দোকান তখন সবে খুলে উনুন জ্বালান শুরু করল । এক লামা অজানা ভাষায় মিষ্টি সুরে ত্রিপিটক পাঠ করে যাচ্ছিল । দলটার সাথে কথায় কথায় জানতে পারলাম, ওই রাতে ওনারাই ইন্দিরা লজে আমাদের নিচে ছিলেন, আর সারারাত ঘুমাতে পারেননি । আমি তার জন্য ওনাদের কাছে দুঃখ্য প্রকাশ করি । বিকে থেকে সান্দাকফু একটা চরম চড়াই । তাল গাছের শেষ আড়াই হাতের মত আরকি ! পথে আরও অনেক ছেলেমেয়ে চলে এল । আমরা খুব ধীরে উঠতে থাকলাম । শান্তা আগে চলে যায় , রুম দখল করার জন্য । মাঝপথে ওঠার পর দেখি শান্তা আবার ফিরে এসেছে । এবার জয়দীপ ওর ব্যাগটা শান্তাকে বইতে দিল । আমরা ঘণ্টা চারেক হেঁটে সান্দাকফু পৌঁছে গেলাম। আমার কৈশোরের স্বপ্ন সফল হল চল্লিশে পৌঁছে ! শেরপা চ্যালেটের নতুন বিল্ডিঙে আমরা দুটো ঘর বুক করে নিলাম । কিন্তু ওদের আসার কোন ঠিক ছিলনা, আবার ঘরেরও আকাল । ২৫০/- করে পার হেড জমা দিয়ে দিতে হল । ওরা না আসলে আমাদের আবার সান্দাকফুর মোড়ে গিয়ে দাঁড়াতে হত বেচার জন্য ! যাইহোক বেলা ১২ টা নাগাদ আমাদের আশঙ্কা দূর করে ওরা জিপে করে পৌঁছে গেল । আমি তার আগে ফ্রেঞ্চ কাট দাঁড়ি কেটে ক্লিন সেভ হয়ে গেছি । এখানেও স্নান করা গেলনা , হালকা করে গা হাত পা ধুয়ে খেতে বসলাম তখন প্রায় ৩ টে । বিকালে এদিক ওদিক ঘুরে বেরালাম। প্রচুর লোক । থাকার জায়গাও অনেক হয়েছে । কাঞ্চনজঙ্ঘা সামান্য উঁকি মারল, তাতে মন ভরলনা । এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিবারকে দেখে মনে হয় স্বয়ং বুদ্ধদেব শুয়ে আছেন। আজ পূর্ণিমা , কোজাগরী লক্ষ্মী পুজা । চাঁদনী রাতে রজতশুভ্র শায়িত বুদ্ধকে দেখে মন ভরে গেল । আমাদের সবার ক্যামেরায় তা অবশ্য ঠিক ভাবে ধরা দেয়নি । ওরা তিনজন পাশের ঘরে ছিল । আজ শিখাকে ড্রিঙ্ক করতে বারন করলেও বাকি দুজনের উস্কানিতে আমাকে লুকিয়েই পরে খেয়েছিল । আসলে আগের দুদিন ওই কারনেই ও অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমি চাইছিলাম না আজ আবার খারাপ কিছু ঘটুক । আমি চাইছিলাম অতিরিক্ত দিনটা সান্দাকফুতেই কাটাই , কিন্তু সবার মত না থাকায় পরদিন আমরা ফালুটের পথে রওনা দেব ।
১২/১০/১১ - শেরপা চ্যালেটের রুটিগুলোর কথা নিশ্চই সবাই মনে রেখেছে । সেই গোল পাউরুটির মত রুটি আর না সেদ্ধ হওয়া আলুর তরকারী খেয়ে আমরা ৭ টা নাগাদ রওনা দিলাম। সকালে সুর্যোদয়ের দৃশ্য ভালো দেখা যায়নি । তবে পরে এভারেস্ট , কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছিল । পথেই সান্দাকফুর হায়েস্ট পয়েন্ট । সেখানে আমি আর জয়দীপ উঠলাম । জয়দীপ গত কালেই এখানে উঠেছিল । সত্যিকারের সান্দাকফু জয় করা হলো। ইতিমধ্যে আমাদের গাইড শান্তা সবার প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছে । ও বিশেষ করে শিখা বহিনের খুব খেয়াল রাখছিল । তাই শিখাও পাহাড়ি ফুল দিয়ে শান্তাকে তার কৃতজ্ঞতা অর্পণ করলো । শান্তা দীপাঞ্জনের ব্যাগটা বইছে , আর শিখার হালকা ব্যাগটা নিজেরা বইছে । আজকের খুব লম্বা পথ। যদিও ফালুটে রিস্ক না নিয়ে আজ আমাদের মোলেতে রাখবে । আর মোলে গিয়ে ফালুটের জন্য চেষ্টা করবে। লম্বা পথ হলেও সোজা পথ । শুরুতেই রডডেনড্রন করিডোরের মধ্যে দিয়ে যেতে হলো। এপ্রিল মাসে এর শোভা দেখবার মত। এমনিতেও এই পথের শোভা খুবই মনোরম । তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে এভারেস্ট আর কাঞ্চনজঙ্ঘাও মিলিয়ে গেছে। ছোট ছোট সবুজ পাহাড় , জঙ্গল , নীলাকাশ , সব মিলিয়ে দারুন ব্যাপার। জীপ গুল হিন্দী সিনেমার মত ছোট সবুজ পাহাড়ের উপর দিয়েই যাচ্ছিল , রাস্তা ছেড়ে । ড্রাই ফ্রুটস খাওয়া হল মাঝে। সোজা পথ হলেও ক্লান্তি ছিলই । তারমধ্যেও রড বসানো পা আর রুকস্যাক নিয়ে সুব্রত বেশ স্টেডী ছিল । দীপাঞ্জনকে নিয়েও চিন্তা ছিল , কিন্তু ও ও আস্তে আস্তে টেনে দিচ্ছে । শিখাও খুব বেশি হতাশ করছেনা । আমি আর জয়দীপ ঠিকই আছি । ঘন্টা সাতেক হাঁটার পর ১৫ কিমি দুরের সবরগ্রামের ফরেস্ট ক্যাম্পে পৌঁছলাম । সেখানে চা আর অদ্ভুত স্বাদের নুডুলস খাওয়া হল । এর পর মোলে ২ কিমি সহজ নামার পথ। শান্তা আগেভাগে চলে গেল থাকার জায়গা ম্যানেজ করতে । এসএসবির ক্যাম্পের লাগোয়া ট্রেকার্স হাট । সেখানে শান্তা অসাধ্য সাধন করে একটা রুম ম্যানেজ করেছে । পরে জানতে পারি সেটা অন্যদের বুক করা রুম ছিল। যদিও শিখা থাকায় কেও আর আমাদের বার করে দেয়নি। বাইরের হল ঘরটায় তখন ট্রেকার্স হাট এ সত্যিই ট্রেকার দের হাট বসেছে । যেটার উপর দিয়েই আমাদের বাইরে যেতে হচ্ছিল , যদিও টয়লেট টা ভিতরেই ছিল । শান্তার সাহায্যে আমরা বাঙালী কায়দায় মুড়ি মেখে বসলাম, সাথে চা। তারপর অবশ্য রামনামও করলাম । ২/৩ টা বাচ্চা কিছু ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে আসে । তাদের সাথে খানিক মজা করি । পরে দেখি হল ঘরে এসএসবির অফিসার সহ গোটা ২৫/৩০ ট্রেকার মিলে জমজমাট গানের আসর । ডিনার এর পর আমিও খানিকক্ষণ বসি সেখানে । সে যেন মিনি ইন্ডিয়া ! শিখারও থাকার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু তার পরামর্শ দাতারা তাকে নিষেধ করে। এতগুল ছেলে যদি খারাপ কিছু করে ! অথচ তারা পাহাড় প্রেমী , গানবাজনা করে ক্লান্তি কাটাচ্ছিল আর সেনাদের ও মনোরঞ্জন করছিল , তারা আমাদের মত মদ্যপ ছিলনা । আসলে পাহাড়ে এসেও অনেকে ক্লিশে শহুরে মানসিকতা ত্যাগ করতে পারেনা । ট্রেক রুটে এইসব সেনারাও কিন্তু মাঝে মধ্যেই সাহায্যের হাত বারিয়ে দেয় । বেশ ঠাণ্ডা ছিল মোলেতে । আমাকেই নিচে শুতে হল । ফালুটে জায়গা পাওয়া নিশ্চিত নয়, তবুও কাল আমরা সরাসরি গোর্খ্যে না গিয়ে আগে ফালুট যাব । শান্তার উপর আমাদের ভরসা ছিল ।
১৩/১০/১২ - সকালে রুটি আলুভাজা খেয়ে বেরোতে ৮ টা বেজে গেল। তার আগে আশপাশটা একটু ঘুরে নিলাম । ক্যাম্পের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত বন্ধ থাকায় ট্রেকার্স হাটে আসা যাওয়ার জন্য নালা - নর্দমা পার হতে হয়। সবরগ্রাম হয়ে ফালুট ৯ কিমি হালকা চড়াই । ঘন্টা চারেকে আমরা পৌঁছে গেলাম। ফালুট সবুজ গালিচায় ঢাকা ন্যাড়া পাহাড়। দুটো থাকার জায়গা , ট্রেকার্স হাট আর ফরেস্ট বাংলো , ছাড়া আর কিছু নেই। প্রচন্ড হাওয়া। শান্তা কোথাও ম্যানেজ করতে পারলনা। ফরেস্টে একটা বেড ছিল , কিন্তু সেটাকে কেন্দ্র করে বা কিচেনে থাকার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলনা। তবে এখানে আমাদের দুপুরের খাওয়াটা হলো দারুন , ডাল - ভাত - অমলেট -সবজি , খিদের মুখে তা ছিল অমৃত সমান। শান্তা একটু তত্পর হলে বুকিং টা করতে পারত , কিন্তু ওর কাছে কেয়ার টেকারের নাম্বার ছিলনা। এই একবারই শান্তার উপরে আমাদের সন্দেহ হয়েছিল , ও ইচ্ছা করে করলনাত , কারন ওর ১৫ তারিখ অন্য গ্রুপ ধরার জন্য চিত্রে ফেরার তারা ছিল। নিরুপায় হয়ে আমরা বেলা দুটোর পর গোর্খ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ১৪ কিমি উতরাই পথ। এসএসবি ক্যাম্পের পাশ দিয়ে সহজ রাস্তা দিয়েই এগোতে থাকলাম। ক্রমশ উতরাই টাও বেশ কঠিন হতে থাকলো । দীপাঞ্জন আর শিখার জন্য বারবার বিশ্রাম নিতে হচ্ছিল। তবে পুরো পথটাই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে , বেশ রোমাঞ্চকর ছিল। সন্ধের মুখে আমরা গোর্খ্যে পৌছলাম । গ্রামের মধ্যে দিয়ে যাবার সময় বাংলায় লেখা থাকা - খাওয়ার সুবন্দোবস্তের বোর্ড ও দেখলাম। শান্তা আমাদের ব্যবস্থা করেছে ইডেন লজে , সেখানে পৌছাতে আরো কিছুটা সময় লাগলো। ৫ বোন মিলে লজটা চালায় শুনে উত্সুক হয়ে ছিলাম , কিন্তু কালা পোখরির মত খুশী হতে পারলাম না। আমাদের আলাদা একটা কটেজ দিল। ১০ ঘন্টা হাঁটার ক্লান্তি দূর করতে অনেকে গরম জলে স্নান করে নিল। সদ্যস্নাতা শিখার শরীর দিয়ে ফরেস্ট স্পাইস এর গন্ধে ঘরটা ম ম করে উঠলো। পায়ের ব্যথা সারাতে ঠান্ডা -গরম জলের স্যাঁক দেওয়া হল সবাই মিলে। শিখার অবস্থাই সবথেকে খারাপ ছিল। এখানেও শান্তা মুড়ি মাখার ব্যবস্থা করে দিল। জৌবারিতে সন্ধ্যায় শান্তা আসায় অনেকে বিরক্ত হয়েছিল , ভেবেছিল ফ্রী তে মদ খেতে এসেছে । ওকে নানা কথায় ভাগিয়ে দেওয়া হযেছিল । যদিও রাতের ঘটনার পর থেকে ও আমাদের আপন হয়ে গেছিল। কালাপোখরী তে আমি ওকে অফার করলে জানতে পারি ও মদে অভ্যস্ত নয় , যখন অন্য গাইডরা তুরং মস্তি করছিল। শান্তা একটু ভদ্র শিষ্ট প্রকৃতির , ওর প্রতি শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেছিল। তারপর থেকে শান্তা সবসময়েই আমাদের সঙ্গী হয়ে গেছিল। গোর্খ্যেতে আমাদের আসর বেশ জমে উঠেছিল , শান্তাও নেপালী গান গেয়ে শোনায় । এদিকে সুব্রতর মাত্রা বেশী হয়ে গেছিল , আর আমরা দেখতে পাই নতুন একটা যাত্রা পালা। শান্তা আমাদের খাবার রুমেই দিয়ে যায়। আমরা পরের দিনটা এখানেই কাটাব ঠিক করি। কোনরকমে রাত টা একসাথেই কাটাই।
১৪/১০/১১ - সকাল সকাল ওঠার তাড়া ছিলনা । তবে সুব্রত সকালে উঠেই পাশের প্যারাডাইস হোটেলে চলে যায় , যাত্রা পালার জন্য ইডেনের মঞ্চ টা মনে হয় উপযুক্ত ছিলনা । ৬ দিন পর আজ সম্পূর্ণ বিশ্রাম । গোর্খ্যে থেকে ভিউ দেখা যায়না , কিন্তু এই ছোট গ্রামটা তার নিজের সৌন্দর্যেই মোহময়ী । গোর্খ্যে খোলা আর রাম্মাম খোলা মিলিত হয়েছে এখানে । এই রুটে গোর্খ্যেই আমার কাছে সবথেকে সুন্দর জায়গা । যে যার মত ঘুরছিলাম , ছবি তুলছিলাম । স্থানিও ভুট্টাও খাওয়া হল । আমি ঘুরতে ঘুরতে একেবারে নদীর পারে গিয়ে পৌঁছলাম , ট্রেকার্স হাটের পাশ দিয়ে । জায়গাটা একদম নির্জন , বেশ গা ছমছমে রোমাঞ্চকর পরিবেশ । ফিরে এসে আমাদের লজের পাশের গোর্খ্যে খোলায় স্নান করলাম আমি আর জয়দীপ , বিয়ার খেতে খেতে । ৭ দিন পর স্নান করলাম, জলটা দারুন ঠাণ্ডা ছিল , তবে গোর্খ্যেতে অত ঠাণ্ডা ছিলনা । স্নান করে ফেরার পথে দেখি শিখা সবার জন্য গাঁদা ফুলের মালা গেঁথে রেখেছে । বিকালে শান্তা আমাদের রাম্মাম খোলা পার করে সিকিমের মধ্যে নিয়ে গেল, যেদিকে রিদভি যাবার রাস্তা চলে গেছে । কিন্তু বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বেশী ঘোরা গেলনা, একটা কাঠের পরিতক্ত বাংলোয় আশ্রয় নিতে হল অনেকক্ষণ । তারপর সোজা ঘরে ফিরে সন্ধ্যার আসরে মেতে উঠলাম । আজ যাত্রা শুরু করল জয়দীপ । শান্তা কে নিয়ে পরল ও । আর বারবার একি কথা বলতে লাগল । ওর অফিস যাবার সময় দ্বিতীয় হুগলী সেতুতে যদি বাইক খারাপ হয়ে যায় , এদিকে ৩ কিমি ওদিকে ৩ কিমি , শান্তা এসে ওকে সাহায্য করবে কিনা ! বেচারি শান্তা সাহায্য করতে যাবে বলেও পার পাচ্ছিলনা । আর খেতে বসে সেই নিয়ে আমাদের সবার অট্টহাস্য । সেই হাসি সামলাতে না পেরেই শিখার আবার অসুস্থ হয়ে পরা । একেবারে যাতা অবস্থা । আমিও একবার বাইরে হাত ধুতে গিয়ে দরজার দিকে না গিয়ে অন্যদিক দিয়ে বেরতে গিয়ে প্রায় ধাক্কা খাচ্ছিলাম । সবাই মিলে আবার হাসি, আর ভাবল আমি আউট হয়ে গেছি । যাইহোক পরদিন আমাদের সকাল সকাল বেরতে হবে, কারন শান্তা আমাদের শ্রীখোলা পৌঁছে দিয়ে মানেভঞ্জন চলে যাবে ।
# আমার ক্যামেরায় নানাভাবে গোর্খ্যে #
১৫/১০/১১ - সকাল সকাল উঠে আমরা রওনা দিলাম শ্রীখোলার উদ্দেশ্যে । সামান্য চড়াই পার করে ঘন্টা খানেকের মধ্যে পৌছে গেলাম সামানদেন ভ্যালি তে । ছোট্ট ছবির মত গ্রাম। তারপর শুধুই নামা , আর সেটা বেশ কঠিন ই ছিল। তবে জঙ্গল আর ঝোরার পাশ দিয়ে পথটা খুব সুন্দর। আরো ঘন্টা খানেক পর আমরা পৌছলাম রাম্মামে । রাস্তার ধারেই একমাত্র হোটেল। সেখানে প্রাতঃরাশ করার জন্য আমরা অনেকটা সময় কাটালাম। এখানে অনেক ফুলের ছবি তোলা হল ।এরপর আমরা এগোলাম শ্রীখোলার দিকে। পথে মাঝে মধ্যেই ঝোরা গুলো মন ভরিয়ে দিচ্ছিল। এছাড়াও নানা জংলি ফুল - ফল নজর করছিল। নামার শেষ দিকটা খুবই ঢালু ছিল। প্রায় ১৫ কিমি রাস্তা আমরা ঘন্টা ছয়েকে হেঁটে বেলা ১২টা নাগাদ শ্রীখোলাতে পৌঁছে গেলাম। এখানে রাম্মাম খোলা আর শ্রীখোলা মিলিত হয়েছে । নদীর এপারে ট্রেকার্স হাট থাকার মত অবস্হায় ছিলনা আর তার কেয়ার টেকারের হোটেল গোপারমা লজ বা ব্যানার্জী লজ আমাদের পোষালো না । শান্তা আমাদের সেতু পার করে কিছুটা এগিয়ে হোটেল শোভরাজে নিয়ে গেল। একেবারে নদীর ধরে সুন্দর পরিবেশে হোটেলটা। বাগুইহাটির শুভাশিস সেনগুপ্ত স্ত্রী পুত্র
নিয়ে পারিবারিক ব্যবসা চালাচ্ছে। তবে আমরা কোনের যে ঘরটায় ঢুকলাম সেটা খুব একটা সুবিধার ছিলনা। এবার শান্তার বিদায়ের পালা। সবারই চোখ ছল ছল । শান্তাকে তার হিসেব বুঝিয়ে দিয়ে আরো ১০০০/- অতিরিক্ত দেওয়া হলো। এক'দিনের ঘটনাবহুল ট্রেকে শান্তার একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল। আর ওর চলে যাওয়া দেখে আমাদের ও মনে পরে যায় যে ট্যুর টা শেষ হতে চলেছে। তাই বিদায় বেলায় একটা মর্মস্পর্শি আবেগ তৈরী হলো। আর তাই দীপাঞ্জনের চোখ থেকে বিসমিল্লার করুন সুর অঝোরে ঝোরে পড়ল। মনটাকে তাজা করতে একটু বিয়ার পান। সবাই হোটেলের গরম জলের অলসতায় গা ডুবিয়ে দিলেও আমি পাশের নদীতেই স্নান করতে যাই। জলটা যেমন ঠান্ডা তেমনই খরস্রোতা ছিল ,তাই মন ভরে স্নান করা গেলনা। বাঙালী খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম। সন্ধ্যায় আবার মুড়ি - চানাচুর , সাথে রাম ! হোটেল থেকেই পরদিন সকালের শেয়ার জীপ বুক করে নিয়েছিলাম। শান্তাও রিম্বিকের জীপ বুকিঙ এর নাম্বার দিয়ে গেছিল। পরে জানতে পারি শান্তাও আর জীপ পায়নি অত বেলায় , রিম্বিকেই থেকে গেছে , পরদিন সকালে ফিরবে। ডিনার করার পরে শিখা - সুব্রত মিলে একটা নাটক শুরু হয়ে যায় । সেই নাটক টা মনে হয় আজকের জন্য অপ্রতুল ছিল , তাই শোবার সময় সেটা সম্পূর্ণ করে দেয় দীপাঞ্জন। ওকে নিয়েই মাঝরাত হয়ে যায়। তাই মধ্যরাতে জয়্দীপের জন্মদিন টাও সেই ভাবে উদযাপন করা গেলনা। এদিকে পরদিন আবার একদম ভোরে বেরোতে হবে।
১৬/১০/১১ - কাকভোরে উঠে আমরা তৈরি হয়ে নিলাম । ঠাণ্ডায় সকালে ওঠাটা খুবি কষ্টের । হোটেলের মালিক নিজে আমাদের সাথে সেপি এসে জীপে বসিয়ে দিলেন । শ্রীখোলা থেকে আধ ঘণ্টার মত হাঁটা পথ সেপি । রিম্বিক পর্যন্ত রাস্তা খুবি বাজে । তারপর ধত্রে তে অনেকক্ষণ দাঁড়াল । আমরাও টুকটাক কিছু খেলাম । এই ধত্রে থেকে হেঁটে তুম লিং পৌঁছান যায় । এরপর সুখিয়া বাজার , ঘুম হয়ে আমরা ১১ টা নাগাদ দার্জিলিং পৌঁছলাম । ম্যাল এ কিছুটা সময় কাটিয়ে , কিছু কেনাকাটা করে আমরা সাঙ্গগ্রিলা তে খেতে ঢুকি । স্বাভাবিক ভাবেই শিখা দেখে বেশী কেনে কম । তারমধ্যে জৌবারি তে মালকিনের পরা নেপালি পোশাক কিনতে চেয়েছিল , কিন্তু মনমত না পাওয়ায় কেনা হয়নি । সাঙ্গগ্রিলা তে আমাদের জন্মদিনের পার্টি হয়ে গেল । শিলিগুরির উদ্দেশ্যে বেরতে ৩ টে বেজে গেল । রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে গিয়ে চিন্তা বারিয়ে দেয় সবার । আমি নিশ্চিন্তে গাড়িতেই বসে ছিলাম । সারানোর পরে গাড়ি আন্ধকারে পাহাড়ি পথে বিপদজনক ভাবে নামতে থাকল। সেই পথে আবার ট্র্যাফিক জ্যাম । যাইহোক , আমরা শেষ পর্যন্ত দার্জিলিং মেল পেলাম । তিন মাস ধরে জয়দীপ আর এ সি টিকিটের জন্য মাথা খেয়েছিল , সেই টিকিটও কনফার্ম হয়ে যায় ।
১৭/১০/১১ - সময়মত সকালেই আমরা শিয়ালদা স্টেশনে পৌঁছে যাই । সবার কাছ থেকে বিদায় নেবার সময় বেশ খারাপ লাগছিল । আমাদের সফরে অনেক অনিশ্চয়তা ছিল , অনেক কষ্ট ছিল , অনেক ঘটনা ছিল , তবুও আমরা সবাই অপেক্ষা করে থাকব কবে আবার পাহাড়ের বুকে ফিরে যাবার জন্যে ।
অন্যান্য তথ্য :-
ম্যাপ -
বিঃদ্রঃ > নীচের ছবিতে ক্লিক করলে ছবিগুল বড় আকারে ও পরপর দেখা যাবে ।
ভূমিকা :- ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সান্দাকফু যাব । কিন্তু হয়ে ওঠেনি । তার আগেই পায়েখড়ি হয়ে যায় তারকেশ্বর বা অযোধ্যা কিমবা বক্সা পাহাড়ে । বছর দশেক আগে আমার বাল্যবন্ধু বাপ্পা র সাথে প্লান করেছিলাম, ট্রেকার্স হাটও বুক হয়ে গেছিল। শেষ মুহুর্তে বাপ্পার কোনো অসুবিধার কারণে সেবার আর যাওয়া হয়নি । তাই মনের মধ্যে খিধে টা থেকেই গেছিল । ইতিমধ্যে আমরা অনেক আধুনিক হয়েছি , সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে আড্ডা মারতে শিখেছি । অর্কুটের "ঘুড়তে ভালোবাসি " নামে একটা কম্যুনিটি তে আমরা আলোচনা করতাম । ২০১১ মে মাসে আমি প্রস্তাব রাখি পুজোর সময় সান্দাকফু যাবার । আমার ভাগ্নে - বন্ধু - ভ্রমন সঙ্গী সুব্রত ছাড়াও আরো অনেকে সাড়া দেয় । কলকাতায় তারা নন্দনে মিলিতও হয় । আমাদের আর এক বন্ধু শিল্পী কদিন আগেই সান্দাকফু ঘুরে এসেছিল, সেও শিখা সহ সবাইকে উৎসাহ ও ভরসা যোগায় । আমি লাতুর থেকেই সব খেয়াল রাখছিলাম । প্রিন্স টিকিট কাটার মুহুর্তে সরে যায় , বাড়ি থেকে ছাড়বেনা বলে । শিখা ও তার বন্ধু দীপাঞ্জন আর জয়দীপ টাকা জমা দেয় । সুব্রত আমাদের সবার টিকিট কাটে । তারপর থেকে আমাদের অন লাইন আড্ডাও বাড়তে থাকে । ঠিক হয় আমি যেদিন কলকাতা পৌঁছাব সেদিন আমরা মিলিত হব । সেটা দোসরা অক্টোবর , রবিবার ।আর আমরা বেরোব সাতই অক্টোবর , একাদশীর দিন ।
আমাদের পরিকল্পিত সূচী
০৭/১০/১১ : রাত্রে দার্জিলিং মেল
০৮/১০/১১ : চিত্রে
০৯/১০/১১ : তুমলিং
১০/১০/১১ : কালাপোখরী
১১/১০/১১ : সান্দাকফু
১২/১০/১১ : ফালুট
১৩/১০/১১ : গোর্খ্যে
১৪/১০/১১ : শ্রীখোলা
১৫/১০/১১ : অতিরক্ত দিন
১৬/১০/১১ : রাত্রে দার্জিলিং মেল
১৭/১০/১১ : সকালে কলকাতা
# মোহরকুঞ্জের মিলনমেলায় #
![]() |
| সৌজন্যে ঃ জয়দীপ রায় |
০৭/১০/১১ ঃ আমরা যথা সময়ে শিয়ালদা ষ্টেশনে পৌঁছে দার্জিলিং মেল ধরি । একমাত্র শিখার মা ও এক বন্ধু ছাড়তে এসেছিল । শিবদাও এসেছিল ছাড়তে । সবাই খেয়েই এসেছিল, আমি যথারীতি বাঙ্গালীর ট্রেনের খাবার লুচি - আলুরদম বার করে খেলাম। ইতিমধ্যে আমাদের ৫ জনের সম্পর্ক একটা জটিল অবস্থায় পৌঁছায় । তাই ট্রেনের আড্ডা তেমন জমল না । আমরা সবাই শুয়ে পড়ি । কেওই হয়ত ঘুমায়নি । কারন রাত ১২ টায় আমার জন্মদিন । কেও কেও শুভেচ্ছা জানালেও রাত টা তেমন ভাল ভাবে উদযাপিত হলনা । কেক কাটা না হোক ট্রেক করা তো হচ্ছে । আর কে না জানে এই দুটো ব্যাপার পরস্পর বিপরীত মুখে অবস্থান করে ।
![]() |
| সৌজন্যে ঃ শিবশঙ্কর সাহা |
![]() |
| # মানেভঞ্জনে যাত্রা শুরুতে , সৌজন্যে - দীপাঞ্জন বসু # |
![]() |
| # মানেভন্জনে যাত্রার শুরুতে # |
![]() |
| # চিত্রে ওঠার পথ # |
![]() |
| # ভিউ পয়েন্ট থেকে মেঘে ঢাকা মানেভঞ্জন # |
![]() |
| # চিত্রে গোম্ফা # |
![]() |
| # হক নেস্ট , চিত্রে # |
![]() |
| # দ্বৈত রামধনু , সৌজন্যে - দীপাঞ্জন বসু # |
![]() |
| # হক নেস্টে নৈশাহার , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # সাতসকালে চিত্রে - সৌজন্যে - দীপাঞ্জন বসু # |
![]() |
| # চিত্রে থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা # |
![]() |
| # চোর্তেনে চিত্রিত চিত্রে # |
![]() |
| # চিত্রে থেকে যাত্রার শুরুতে # |
![]() |
| # ওই দেখা যায় লামেধুরা # |
![]() |
| # লামেধুরা # |
![]() |
| # লামেধুরা # |
![]() |
| # মেঘে ঢাকা মেঘমার পথে দীপাঞ্জনের পায়ে লাগা # |
![]() |
| # ভারত - নেপাল সীমান্ত , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # মেঘমা - তুম লিং এর পথে , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # তুমলিং # |
![]() |
| # তুমলিং এর পরে সেই হোটেলটা , যেখানে আমরা থাকিনি - সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # জৌবারি ঢোকার ঠিক আগে # |
![]() |
| # জৌবারিতে যাত্রাপালার আগে ও পরে , সৌজন্যে - সুব্রত রায় # |
![]() |
| # জৌবারিতে ইন্দিরা লজের মালকিনের সাথে , সৌজন্যে - সুব্রত রায় # |
![]() |
| # জৌবারিতে , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # জৌ বারি থেকে নামার সময় দূরে কয়াকাঁটা ওঠার পথ # |
![]() |
| # গৈরিবাস # |
![]() |
| # কুয়াশায় ঢাকা কালাপোখরি # |
![]() |
| # রান্নাঘরে পাসান্দ # |
![]() |
| # পালিত মা বাবার সাথে পাসান্দ # |
![]() |
| # পাসান্দ # |
![]() |
| # কালা পোখরি # |
![]() |
| # কালা পোখরি থেকে দূরে পাহাড়ের মাথায় সান্দাকফু # |
১১/১০/১১ - রাতে ভালই ঘুম হয়েছিল । পুকুরের উপরে একটা গুহা আর দেবতার থান আছে , সেখানে পুজো দিয়ে আমরা সকাল সকাল যাত্রা শুরু করলাম । কারন আগে গিয়ে থাকার জায়গা পাবার জন্য । কিছুটা যাবার পর পেলাম বিকেভঞ্জন । এখানেও একটা চেকপোস্ট আছে । পরে জানতে পারি এখানকার কর্মী পাসান্দ ও খুব বিখ্যাত । কারন বহুবছর আগে ছোট্টো পাসান্দ এক বাঙ্গালী ট্রেকারের মানিব্যাগ অনেকটা পথ গিয়ে ফেরত দিয়ে এসেছিল । তিনি আবার বিখ্যাত আর লেখক । তিনিই আপামর বাঙ্গালীকে এই পাসান্দ এর কথা শুনিয়েছিলেন । আমিও এই পাসান্দকে দেখেছি, এখন যুবতি । বিকে তে একটা ঝুপড়ি দোকানে আমরা নাস্তার অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম । ওই বড় দলটাও এসে এখানেই খাবার অর্ডার দিল। দোকান তখন সবে খুলে উনুন জ্বালান শুরু করল । এক লামা অজানা ভাষায় মিষ্টি সুরে ত্রিপিটক পাঠ করে যাচ্ছিল । দলটার সাথে কথায় কথায় জানতে পারলাম, ওই রাতে ওনারাই ইন্দিরা লজে আমাদের নিচে ছিলেন, আর সারারাত ঘুমাতে পারেননি । আমি তার জন্য ওনাদের কাছে দুঃখ্য প্রকাশ করি । বিকে থেকে সান্দাকফু একটা চরম চড়াই । তাল গাছের শেষ আড়াই হাতের মত আরকি ! পথে আরও অনেক ছেলেমেয়ে চলে এল । আমরা খুব ধীরে উঠতে থাকলাম । শান্তা আগে চলে যায় , রুম দখল করার জন্য । মাঝপথে ওঠার পর দেখি শান্তা আবার ফিরে এসেছে । এবার জয়দীপ ওর ব্যাগটা শান্তাকে বইতে দিল । আমরা ঘণ্টা চারেক হেঁটে সান্দাকফু পৌঁছে গেলাম। আমার কৈশোরের স্বপ্ন সফল হল চল্লিশে পৌঁছে ! শেরপা চ্যালেটের নতুন বিল্ডিঙে আমরা দুটো ঘর বুক করে নিলাম । কিন্তু ওদের আসার কোন ঠিক ছিলনা, আবার ঘরেরও আকাল । ২৫০/- করে পার হেড জমা দিয়ে দিতে হল । ওরা না আসলে আমাদের আবার সান্দাকফুর মোড়ে গিয়ে দাঁড়াতে হত বেচার জন্য ! যাইহোক বেলা ১২ টা নাগাদ আমাদের আশঙ্কা দূর করে ওরা জিপে করে পৌঁছে গেল । আমি তার আগে ফ্রেঞ্চ কাট দাঁড়ি কেটে ক্লিন সেভ হয়ে গেছি । এখানেও স্নান করা গেলনা , হালকা করে গা হাত পা ধুয়ে খেতে বসলাম তখন প্রায় ৩ টে । বিকালে এদিক ওদিক ঘুরে বেরালাম। প্রচুর লোক । থাকার জায়গাও অনেক হয়েছে । কাঞ্চনজঙ্ঘা সামান্য উঁকি মারল, তাতে মন ভরলনা । এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিবারকে দেখে মনে হয় স্বয়ং বুদ্ধদেব শুয়ে আছেন। আজ পূর্ণিমা , কোজাগরী লক্ষ্মী পুজা । চাঁদনী রাতে রজতশুভ্র শায়িত বুদ্ধকে দেখে মন ভরে গেল । আমাদের সবার ক্যামেরায় তা অবশ্য ঠিক ভাবে ধরা দেয়নি । ওরা তিনজন পাশের ঘরে ছিল । আজ শিখাকে ড্রিঙ্ক করতে বারন করলেও বাকি দুজনের উস্কানিতে আমাকে লুকিয়েই পরে খেয়েছিল । আসলে আগের দুদিন ওই কারনেই ও অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমি চাইছিলাম না আজ আবার খারাপ কিছু ঘটুক । আমি চাইছিলাম অতিরিক্ত দিনটা সান্দাকফুতেই কাটাই , কিন্তু সবার মত না থাকায় পরদিন আমরা ফালুটের পথে রওনা দেব ।
![]() |
| # কলাপোখরীর গুহায় # |
![]() |
| # ইয়াক # |
![]() |
| # বিকেভঞ্জনের পথে # |
![]() |
| # বিকেভঞ্জনের আগে , দুরে পাহাড়ের মাথায় সান্দাকফু # |
![]() |
| # ব্লূ লেগুনের বিষফল নয়, বাচ্চারা খায় # |
![]() |
| # নজর কারা পাহাড়ি ফুল # |
![]() |
| # বিকে ভঞ্জন থেকে # |
![]() |
| # বিকে ভঞ্জন থেকে # |
![]() |
| # বিকে ভঞ্জন # |
![]() |
| # সান্দাকফুতে পাহাড়ি লঙ্কা # |
![]() |
| # সান্দাকফু # |
![]() |
| # সান্দাকফু সামিট # |
![]() |
| # সান্দাকফু থেকে কান্কন্জন্ঘা # |
![]() |
| # কান্চন্জন্ঘা পরিবার , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # এভারেস্ট পরিবার , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # তিন বোনের পরিবার , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # শেরপা চ্যালেত এ মহিষাসুর মর্দিনী , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # সান্দাকফুতে শেরপা চ্যালেটে # |
![]() |
| # কোজাগরী পূর্নিমার রাতে কান্চন্জন্ঘা পরিবার যেন শায়িত বুদ্ধ ! সৌজন্যে - সুব্রত রায় # |
![]() |
| # সান্দাকফু টপে # # নিচে সান্দাকফু টপে জয়দীপ আর এভারেস্ট , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # সান্দাকফু টপ থেকে এভারেস্ট পরিবার # |
![]() |
| # বিষ ফুল # |
![]() |
| # ফালুটের পথে # |
![]() |
| # ফালুটের পথে বিশ্রাম , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # আর পারিনা ! # |
![]() |
| # সামনের দুজনে টুর বই পড়ছে ! সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # ফালুটের পথে , সৌজন্যে - শিখা / দীপাঞ্জন বসু # |
![]() |
| # ফালুটের পথে ইয়াক # |
![]() |
| # সবরগ্রামের ফরেস্ট ক্যাম্পে # |
![]() |
| # মোলে ট্রেকার্স হাট # |
![]() |
| # মোলেতে বাচ্চাদের সাথে শিখা # |
![]() |
| # মোলেতে গানের গু-গাঁ -মে -গ- করছি ! # |
১৩/১০/১২ - সকালে রুটি আলুভাজা খেয়ে বেরোতে ৮ টা বেজে গেল। তার আগে আশপাশটা একটু ঘুরে নিলাম । ক্যাম্পের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত বন্ধ থাকায় ট্রেকার্স হাটে আসা যাওয়ার জন্য নালা - নর্দমা পার হতে হয়। সবরগ্রাম হয়ে ফালুট ৯ কিমি হালকা চড়াই । ঘন্টা চারেকে আমরা পৌঁছে গেলাম। ফালুট সবুজ গালিচায় ঢাকা ন্যাড়া পাহাড়। দুটো থাকার জায়গা , ট্রেকার্স হাট আর ফরেস্ট বাংলো , ছাড়া আর কিছু নেই। প্রচন্ড হাওয়া। শান্তা কোথাও ম্যানেজ করতে পারলনা। ফরেস্টে একটা বেড ছিল , কিন্তু সেটাকে কেন্দ্র করে বা কিচেনে থাকার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলনা। তবে এখানে আমাদের দুপুরের খাওয়াটা হলো দারুন , ডাল - ভাত - অমলেট -সবজি , খিদের মুখে তা ছিল অমৃত সমান। শান্তা একটু তত্পর হলে বুকিং টা করতে পারত , কিন্তু ওর কাছে কেয়ার টেকারের নাম্বার ছিলনা। এই একবারই শান্তার উপরে আমাদের সন্দেহ হয়েছিল , ও ইচ্ছা করে করলনাত , কারন ওর ১৫ তারিখ অন্য গ্রুপ ধরার জন্য চিত্রে ফেরার তারা ছিল। নিরুপায় হয়ে আমরা বেলা দুটোর পর গোর্খ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ১৪ কিমি উতরাই পথ। এসএসবি ক্যাম্পের পাশ দিয়ে সহজ রাস্তা দিয়েই এগোতে থাকলাম। ক্রমশ উতরাই টাও বেশ কঠিন হতে থাকলো । দীপাঞ্জন আর শিখার জন্য বারবার বিশ্রাম নিতে হচ্ছিল। তবে পুরো পথটাই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে , বেশ রোমাঞ্চকর ছিল। সন্ধের মুখে আমরা গোর্খ্যে পৌছলাম । গ্রামের মধ্যে দিয়ে যাবার সময় বাংলায় লেখা থাকা - খাওয়ার সুবন্দোবস্তের বোর্ড ও দেখলাম। শান্তা আমাদের ব্যবস্থা করেছে ইডেন লজে , সেখানে পৌছাতে আরো কিছুটা সময় লাগলো। ৫ বোন মিলে লজটা চালায় শুনে উত্সুক হয়ে ছিলাম , কিন্তু কালা পোখরির মত খুশী হতে পারলাম না। আমাদের আলাদা একটা কটেজ দিল। ১০ ঘন্টা হাঁটার ক্লান্তি দূর করতে অনেকে গরম জলে স্নান করে নিল। সদ্যস্নাতা শিখার শরীর দিয়ে ফরেস্ট স্পাইস এর গন্ধে ঘরটা ম ম করে উঠলো। পায়ের ব্যথা সারাতে ঠান্ডা -গরম জলের স্যাঁক দেওয়া হল সবাই মিলে। শিখার অবস্থাই সবথেকে খারাপ ছিল। এখানেও শান্তা মুড়ি মাখার ব্যবস্থা করে দিল। জৌবারিতে সন্ধ্যায় শান্তা আসায় অনেকে বিরক্ত হয়েছিল , ভেবেছিল ফ্রী তে মদ খেতে এসেছে । ওকে নানা কথায় ভাগিয়ে দেওয়া হযেছিল । যদিও রাতের ঘটনার পর থেকে ও আমাদের আপন হয়ে গেছিল। কালাপোখরী তে আমি ওকে অফার করলে জানতে পারি ও মদে অভ্যস্ত নয় , যখন অন্য গাইডরা তুরং মস্তি করছিল। শান্তা একটু ভদ্র শিষ্ট প্রকৃতির , ওর প্রতি শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেছিল। তারপর থেকে শান্তা সবসময়েই আমাদের সঙ্গী হয়ে গেছিল। গোর্খ্যেতে আমাদের আসর বেশ জমে উঠেছিল , শান্তাও নেপালী গান গেয়ে শোনায় । এদিকে সুব্রতর মাত্রা বেশী হয়ে গেছিল , আর আমরা দেখতে পাই নতুন একটা যাত্রা পালা। শান্তা আমাদের খাবার রুমেই দিয়ে যায়। আমরা পরের দিনটা এখানেই কাটাব ঠিক করি। কোনরকমে রাত টা একসাথেই কাটাই।
![]() |
| # উপরে নিচে দুটোই মোলে থেকে ফালুটে ওঠার পথ # |
![]() |
| # উপরে নিচে দুটোই ফালুট ট্রেকার্স হাটের ছবি # |
![]() |
| # নিচের ছবিগুল ফালুট থেকে গোর্খ্যে যাবার পথের ছবি # |
![]() |
| # আমাদের প্রিয় গাইড শান্তা # # উপরের লাল বর্ডারের ছবিগুলো বন্ধুদের তোলা # |
১৪/১০/১১ - সকাল সকাল ওঠার তাড়া ছিলনা । তবে সুব্রত সকালে উঠেই পাশের প্যারাডাইস হোটেলে চলে যায় , যাত্রা পালার জন্য ইডেনের মঞ্চ টা মনে হয় উপযুক্ত ছিলনা । ৬ দিন পর আজ সম্পূর্ণ বিশ্রাম । গোর্খ্যে থেকে ভিউ দেখা যায়না , কিন্তু এই ছোট গ্রামটা তার নিজের সৌন্দর্যেই মোহময়ী । গোর্খ্যে খোলা আর রাম্মাম খোলা মিলিত হয়েছে এখানে । এই রুটে গোর্খ্যেই আমার কাছে সবথেকে সুন্দর জায়গা । যে যার মত ঘুরছিলাম , ছবি তুলছিলাম । স্থানিও ভুট্টাও খাওয়া হল । আমি ঘুরতে ঘুরতে একেবারে নদীর পারে গিয়ে পৌঁছলাম , ট্রেকার্স হাটের পাশ দিয়ে । জায়গাটা একদম নির্জন , বেশ গা ছমছমে রোমাঞ্চকর পরিবেশ । ফিরে এসে আমাদের লজের পাশের গোর্খ্যে খোলায় স্নান করলাম আমি আর জয়দীপ , বিয়ার খেতে খেতে । ৭ দিন পর স্নান করলাম, জলটা দারুন ঠাণ্ডা ছিল , তবে গোর্খ্যেতে অত ঠাণ্ডা ছিলনা । স্নান করে ফেরার পথে দেখি শিখা সবার জন্য গাঁদা ফুলের মালা গেঁথে রেখেছে । বিকালে শান্তা আমাদের রাম্মাম খোলা পার করে সিকিমের মধ্যে নিয়ে গেল, যেদিকে রিদভি যাবার রাস্তা চলে গেছে । কিন্তু বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বেশী ঘোরা গেলনা, একটা কাঠের পরিতক্ত বাংলোয় আশ্রয় নিতে হল অনেকক্ষণ । তারপর সোজা ঘরে ফিরে সন্ধ্যার আসরে মেতে উঠলাম । আজ যাত্রা শুরু করল জয়দীপ । শান্তা কে নিয়ে পরল ও । আর বারবার একি কথা বলতে লাগল । ওর অফিস যাবার সময় দ্বিতীয় হুগলী সেতুতে যদি বাইক খারাপ হয়ে যায় , এদিকে ৩ কিমি ওদিকে ৩ কিমি , শান্তা এসে ওকে সাহায্য করবে কিনা ! বেচারি শান্তা সাহায্য করতে যাবে বলেও পার পাচ্ছিলনা । আর খেতে বসে সেই নিয়ে আমাদের সবার অট্টহাস্য । সেই হাসি সামলাতে না পেরেই শিখার আবার অসুস্থ হয়ে পরা । একেবারে যাতা অবস্থা । আমিও একবার বাইরে হাত ধুতে গিয়ে দরজার দিকে না গিয়ে অন্যদিক দিয়ে বেরতে গিয়ে প্রায় ধাক্কা খাচ্ছিলাম । সবাই মিলে আবার হাসি, আর ভাবল আমি আউট হয়ে গেছি । যাইহোক পরদিন আমাদের সকাল সকাল বেরতে হবে, কারন শান্তা আমাদের শ্রীখোলা পৌঁছে দিয়ে মানেভঞ্জন চলে যাবে ।
# আমার ক্যামেরায় নানাভাবে গোর্খ্যে #
১৫/১০/১১ - সকাল সকাল উঠে আমরা রওনা দিলাম শ্রীখোলার উদ্দেশ্যে । সামান্য চড়াই পার করে ঘন্টা খানেকের মধ্যে পৌছে গেলাম সামানদেন ভ্যালি তে । ছোট্ট ছবির মত গ্রাম। তারপর শুধুই নামা , আর সেটা বেশ কঠিন ই ছিল। তবে জঙ্গল আর ঝোরার পাশ দিয়ে পথটা খুব সুন্দর। আরো ঘন্টা খানেক পর আমরা পৌছলাম রাম্মামে । রাস্তার ধারেই একমাত্র হোটেল। সেখানে প্রাতঃরাশ করার জন্য আমরা অনেকটা সময় কাটালাম। এখানে অনেক ফুলের ছবি তোলা হল ।এরপর আমরা এগোলাম শ্রীখোলার দিকে। পথে মাঝে মধ্যেই ঝোরা গুলো মন ভরিয়ে দিচ্ছিল। এছাড়াও নানা জংলি ফুল - ফল নজর করছিল। নামার শেষ দিকটা খুবই ঢালু ছিল। প্রায় ১৫ কিমি রাস্তা আমরা ঘন্টা ছয়েকে হেঁটে বেলা ১২টা নাগাদ শ্রীখোলাতে পৌঁছে গেলাম। এখানে রাম্মাম খোলা আর শ্রীখোলা মিলিত হয়েছে । নদীর এপারে ট্রেকার্স হাট থাকার মত অবস্হায় ছিলনা আর তার কেয়ার টেকারের হোটেল গোপারমা লজ বা ব্যানার্জী লজ আমাদের পোষালো না । শান্তা আমাদের সেতু পার করে কিছুটা এগিয়ে হোটেল শোভরাজে নিয়ে গেল। একেবারে নদীর ধরে সুন্দর পরিবেশে হোটেলটা। বাগুইহাটির শুভাশিস সেনগুপ্ত স্ত্রী পুত্র
নিয়ে পারিবারিক ব্যবসা চালাচ্ছে। তবে আমরা কোনের যে ঘরটায় ঢুকলাম সেটা খুব একটা সুবিধার ছিলনা। এবার শান্তার বিদায়ের পালা। সবারই চোখ ছল ছল । শান্তাকে তার হিসেব বুঝিয়ে দিয়ে আরো ১০০০/- অতিরিক্ত দেওয়া হলো। এক'দিনের ঘটনাবহুল ট্রেকে শান্তার একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল। আর ওর চলে যাওয়া দেখে আমাদের ও মনে পরে যায় যে ট্যুর টা শেষ হতে চলেছে। তাই বিদায় বেলায় একটা মর্মস্পর্শি আবেগ তৈরী হলো। আর তাই দীপাঞ্জনের চোখ থেকে বিসমিল্লার করুন সুর অঝোরে ঝোরে পড়ল। মনটাকে তাজা করতে একটু বিয়ার পান। সবাই হোটেলের গরম জলের অলসতায় গা ডুবিয়ে দিলেও আমি পাশের নদীতেই স্নান করতে যাই। জলটা যেমন ঠান্ডা তেমনই খরস্রোতা ছিল ,তাই মন ভরে স্নান করা গেলনা। বাঙালী খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম। সন্ধ্যায় আবার মুড়ি - চানাচুর , সাথে রাম ! হোটেল থেকেই পরদিন সকালের শেয়ার জীপ বুক করে নিয়েছিলাম। শান্তাও রিম্বিকের জীপ বুকিঙ এর নাম্বার দিয়ে গেছিল। পরে জানতে পারি শান্তাও আর জীপ পায়নি অত বেলায় , রিম্বিকেই থেকে গেছে , পরদিন সকালে ফিরবে। ডিনার করার পরে শিখা - সুব্রত মিলে একটা নাটক শুরু হয়ে যায় । সেই নাটক টা মনে হয় আজকের জন্য অপ্রতুল ছিল , তাই শোবার সময় সেটা সম্পূর্ণ করে দেয় দীপাঞ্জন। ওকে নিয়েই মাঝরাত হয়ে যায়। তাই মধ্যরাতে জয়্দীপের জন্মদিন টাও সেই ভাবে উদযাপন করা গেলনা। এদিকে পরদিন আবার একদম ভোরে বেরোতে হবে।
![]() |
| # গর্খ্যে থেকে রাম্মামের পথে # |
![]() |
| # সামানদেন ভ্যালি # |
![]() |
| # সামানদেন ভ্যালি # |
![]() |
| # সামানদেন ভ্যালি # |
![]() |
| # গর্খ্যে থেকে রাম্মামের পথে # |
![]() |
| # রাম্মাম এর হোটেল # |
![]() |
| # রাম্মাম এর হোটেল # |
![]() |
| # রাম্মাম এর হোটেল # |
![]() |
| # রাম্মাম এর হোটেল এর ফুল # |
![]() |
| # রাম্মাম থেকে শ্রী খোলার পথে # |
![]() |
![]() |
| # রাম্মাম থেকে শ্রী খোলার পথে # |
![]() |
| # রাম্মাম থেকে শ্রী খোলার পথে # |
![]() |
| # রাম্মাম থেকে শ্রী খোলার পথে # |
![]() |
| # শ্রীখোলা ট্রেকার্স হাট # |
![]() |
| # শ্রীখোলা সেতু # |
![]() |
| # শ্রীখোলা গোপারমা লজ # |
![]() |
| # শ্রীখোলা শোভরাজ লজ # |
![]() |
| # আমি আর শান্তা # |
![]() |
| # শোভরাজ লজের মালিকের সাথে # |
![]() |
| # হে বন্ধু বিদায় # |
![]() |
| # শ্রীখোলাতে স্নানের সময় # |
১৬/১০/১১ - কাকভোরে উঠে আমরা তৈরি হয়ে নিলাম । ঠাণ্ডায় সকালে ওঠাটা খুবি কষ্টের । হোটেলের মালিক নিজে আমাদের সাথে সেপি এসে জীপে বসিয়ে দিলেন । শ্রীখোলা থেকে আধ ঘণ্টার মত হাঁটা পথ সেপি । রিম্বিক পর্যন্ত রাস্তা খুবি বাজে । তারপর ধত্রে তে অনেকক্ষণ দাঁড়াল । আমরাও টুকটাক কিছু খেলাম । এই ধত্রে থেকে হেঁটে তুম লিং পৌঁছান যায় । এরপর সুখিয়া বাজার , ঘুম হয়ে আমরা ১১ টা নাগাদ দার্জিলিং পৌঁছলাম । ম্যাল এ কিছুটা সময় কাটিয়ে , কিছু কেনাকাটা করে আমরা সাঙ্গগ্রিলা তে খেতে ঢুকি । স্বাভাবিক ভাবেই শিখা দেখে বেশী কেনে কম । তারমধ্যে জৌবারি তে মালকিনের পরা নেপালি পোশাক কিনতে চেয়েছিল , কিন্তু মনমত না পাওয়ায় কেনা হয়নি । সাঙ্গগ্রিলা তে আমাদের জন্মদিনের পার্টি হয়ে গেল । শিলিগুরির উদ্দেশ্যে বেরতে ৩ টে বেজে গেল । রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে গিয়ে চিন্তা বারিয়ে দেয় সবার । আমি নিশ্চিন্তে গাড়িতেই বসে ছিলাম । সারানোর পরে গাড়ি আন্ধকারে পাহাড়ি পথে বিপদজনক ভাবে নামতে থাকল। সেই পথে আবার ট্র্যাফিক জ্যাম । যাইহোক , আমরা শেষ পর্যন্ত দার্জিলিং মেল পেলাম । তিন মাস ধরে জয়দীপ আর এ সি টিকিটের জন্য মাথা খেয়েছিল , সেই টিকিটও কনফার্ম হয়ে যায় ।
![]() |
| # দার্জিলিং ম্যালে আমরা # |
![]() |
| # দ্য লাস্ট ডিনার , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # সেই দুশ্চিন্তার মুহূর্তে , সৌজন্যে - জয়দীপ রায় # |
![]() |
| # দার্জিলিং মেলে আমরা # |
১৭/১০/১১ - সময়মত সকালেই আমরা শিয়ালদা স্টেশনে পৌঁছে যাই । সবার কাছ থেকে বিদায় নেবার সময় বেশ খারাপ লাগছিল । আমাদের সফরে অনেক অনিশ্চয়তা ছিল , অনেক কষ্ট ছিল , অনেক ঘটনা ছিল , তবুও আমরা সবাই অপেক্ষা করে থাকব কবে আবার পাহাড়ের বুকে ফিরে যাবার জন্যে ।
অন্যান্য তথ্য :-
ম্যাপ -
কিভাবে যাবেন – কলকাতা থেকে রাতের ট্রেনে সকালে নিউ জলপাইগুড়ি । সেখান থেকে বা শিলিগুড়ি জংশন থেকে শেয়ার বা ভাড়া করা জীপে মানেভঞ্জন । তারপর ৭ দিনের ৭০ কিমি ট্রেক ।
স্থানীয় ব্যবস্থা – গাইড এসোসিয়েসন প্রধান দেন্ডুপ ভুটিয়া - ৯৭৩৪০৫৬৯৪৪ / ৯৩৩৩৯৯৩৯১৩ / bhutiadendup@yahoo.com. , জীবনদা - ৯৭৩৩০৪৪৫১২, গাইড শান্তা কুমার গোল্যে - ৯৬৩৫২৮৮২৯২, সান্দাকফুতে শেরপা চ্যালেট - ৯৯৩৩৪৮৮১৫৯, শ্রীখলা শুভাশিস সেনগুপ্ত - ৯৯৩৩৪৮৮২৪৩ / ৯৯৩২২১৬১৯৭ / hotelshovraj@yahoo.com. রিম্বিকে জীপ কাউন্টার - প্রভু প্রধান - ৯৭৩৩১৭৭৮০৯.
আনুমানিক খরচ - গাইড ৩৫০/- , পোর্টার ৩৫০/- , ক্যামেরা চার্জ - ১০০/-, ফরেস্ট পারমিট - ১০০/- . কলকাতা থেকে জনপ্রতি ৬০০০/- খরচ হবে ।
উৎসব – বিভিন্ন সময়ে বাইকিং , সাইক্লিং , ম্যারাথন হয় ।
সঠিক সময় – মার্চ থেকে মে , অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ।
ছবি – সৌজন্যে দীপঙ্কর রায়, শিবশঙ্কর সাহা ,সুব্রত রায় , জয়দীপ রায়, দীপাঞ্জন বসু । ক্যামেরা - অলিম্পাস ।
লেখক পরিচয় – বেসরকারি হাসপাতালের একাউন্টস বিভাগের প্রধান ( DGM , Accounts of Phenomenal Hospital & Research Centre, Latur ) , লাতুর , মহারাষ্ট্র । কলকাতাকে কেন্দ্র করে বড় হয়ে উঠলেও গত ১০ বছর বাংলার বাইরে আছি । ঘুরতে ভালবাসি । একটা শেষ করে এসে পরেরটা নিয়ে ভাবতে শুরু করি ।









































































































































Sorry ... jatrapalar pic ta Joubari na sandakphu er... Dipankar
ReplyDeleteyes u r right mam. gharer dwal ta dekhe bujhlam. change kore deoa habe.
DeleteEi sob amake pathanor kono mane ami dekhchi na..jara enjoy kore tader k pathao.
ReplyDelete@bably...eta ekta simple beranor galpo, amar nijer moto kore lekha. ami asa korechhilam sobai eta njoy korbe, tai amar mail list er sobar kachhei link ta pathano hoechhilo.
DeleteExcellent...very helpful
Delete...want to read...more...
Khub e sundar... Jawar icche ta chagiye uthlo abar.
ReplyDelete@manojit...trekker der kachhe sandakphu holo aam bangalir kachhe puri r moto. jatobar khusi jaoa jay.
DeleteHu ... ami ota diye e suru korbo bhabchi
Deletekhub khub bhalo laglo...fele asa anek srimiti...oi rastay mone pore galo....suvechha roilo tomader amon aro aro trek hok...
ReplyDeletethank u shibda...
Deletetumi lekha ta arekbar lekho....ei lekha akdom e bhalo hoyni...
ReplyDeleteধন্যবাদ, খুব খুব ভাল লাগল.....
ReplyDeleteধন্যবাদ, খুব খুব ভাল লাগল.....
ReplyDelete